ইউটিউবে দেখে গোল্ডেন ক্রাউন, জেসমিন-২ ও ব্লাক জাম্বু জাতের তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের দেওপাশা বাগ গ্রামের রাকিব, আকাশ, আঙ্গুর নামে তিন শিক্ষিত যুবক। গ্রীষ্মকালীন সবজির পাশাপাশি জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘গোল্ডেন ক্রাউন’ তরমুজ চাষ শুরু করেন তারা। তরমুজ চাষে সফলতা পেয়েছেন তারা। তিন যুবকের নতুন জাতের তরমুজ চাষে সফলতা দেখে উপজেলার অনেকেই এ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন স্থানীয় তিন যুবক। এ তরমুজ গাঢ় লাল। খেতে সুস্বাধু ও মিষ্টি। অল্প সময়ে ভালো ফলন-দাম ও বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় খুশি চাষিরা। এসব তরমুজ বাজারে তুলতে হয়না। ক্ষেত থেকেই পাইকাররা কিনে নিয়ে যায়। এতে বাড়তি খরচও লাগছেনা তাদের। এ তরমুজের আদি নিবাস তাইওয়ান। নতুন জাতের তরমুজটি উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ শুরু হলেও বাজারে ভালো দামের পাশাপাশি চাহিদাও রয়েছে বেশ।
রাকিব, আঙ্গুর, ফয়সাল জানান, তারা ইউটিউবে ক্যাপসিকাম চাষ দেখে ১ বিঘা জমি লিজ নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। প্রথমে ৪০ শতাংশ জমিতে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে চাষ করেন ক্যাপসিকাম। উৎপাদিত ক্যাপসিকাম বিক্রি করেন ৩ লাখ টাকা। তাদের লাভ হয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর এ লাভকে পুঁজি করে আরও বড়কিছু করার স্বপ্ন জাগে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষে চুয়াডাঙ্গার কৃষি উদ্যোক্তা খায়রুল ইসলাম সার্বিক সহযোগিতায় ও উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরীক্ষামূলক ৫ বিঘা জমিতে বীজ বপন করেন। এ তরমুজ চাষে প্রায় ৫বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা এবং বিক্রি হবে ১২ লক্ষ টাকা। ৯ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশাবাদী তারা।
করগাঁও ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি অফিসার জাকির হোসেন জানান, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এ তরমুজ চাষে প্রসারের লক্ষ্যে কৃষকদের বীজ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ।
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি অফিসার মুকশেদুল হক বলেন, গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ বিদেশি ফল। সোনালি রঙের গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষ ছড়িয়ে দিতে উপজেলায় বিভিন্ন চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছে করা হচ্ছে। এ তিন শিক্ষিত যুবক প্রথমবারের মতো গোল্ডের ক্রাউন জাতের তরমুজের চাষ করেছেন। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছি। এ জাতের তরমুজ চাষ কটিয়াদী উপজেলায় সম্প্রসারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।









