- বন্দরে গমবাহী ৬ হাজার, আসছে আরও
দেশে ভাতের পরই গম ও গমজাতপণ্যের চাহিদা বেশি। ৭৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে দেশে উৎপাদন হয় মাত্র ১১ লাখ টন গম। বাকি চাহিদা পূরণে বছরে ৬৪ লাখ টন গমই আমদানি করতে হয়। এসব গম আসে অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন, ভারত ও কানাডা থেকে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পাশাপাশি ভারতের গম রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় আমদানির ক্ষেত্রে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। যদিও সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে গম রপ্তানিতে সম্মতি দিয়েছে ভারত। ভারত তাদের ৬০ শতাংশ গমই বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। রাশিয়া-ইউক্রেন থেকে ঢাকা তার ৪৫ শতাংশ প্রয়োজন মেটায়। সম্প্রতি ভারত থেকে গম আমদানির বিষয়ে দেশটিকে দিয়েছে বাংলাদেশ।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফারমার্স প্রকিউরমেন্ট প্রসেসিং অ্যান্ড রিটেইলিং কো–অপারেটিভস অব ইন্ডিয়া (এনএসিওএফ) সম্প্রতি এক চিঠিতে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশে গম রপ্তানি করতে আগ্রহী। এ তথ্য হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরানকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করে খাদ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশের গম আমদানির স্বার্থে তিনি যেন ভারতের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, আটা-ময়দার দাম এক মাসেই বেড়েছে ২৩ শতাংশ। এক বছর আগেও খোলা সাদা আটার কেজি ছিল ৩০-৩২ টাকা, বর্তমানে তা ৪২-৪৮ টাকা। আর প্যাকেটজাত আটা এক বছর আগের ৩২-৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা। একইভাবে এক বছর আগের তুলনায় খোলা ময়দার প্রতি কেজির দাম ২৫-২৬ টাকা বেড়ে ৬০-৬২ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দার দাম ৪২-৪৫ টাকা থেকে ৬০-৬৮ টাকা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রমতে, সরকারিভাবে আমদানি হচ্ছে এক লাখ পাঁচ হাজার টন গম। এর মধ্যে ৫২ হাজার পাঁচশ টনের একটি জাহাজ থেকে গম খালাস চলছে। গত সোমবার রাতেও আরেকটি জাহাজ এসেছে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি (২০২১-২২) অর্থবছরের প্রথম সাড়ে ১০ মাসে (১ জুলাই ১৫ মে পর্যন্ত) সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মোট ৪৩ লাখ ৯০ হাজার ৪৯০ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ৯ লাখ ৮২ হাজার ৭০০ টন চাল এবং ৩৪ লাখ ৭ হাজার ৭৯০ টন গম। একই সময়ে সরকারিভাবে খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৬৭০ টন। এতে চাল আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৪০ টন এবং গম আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৩০ টন। নতুন করে ভারত থেকে আসা দুই জাহাজে সরকারি এক লাখ ৫ হাজার টনের গম যুক্ত হলে সরকারিভাবে গমের মজুত বাড়বে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত সাড়ে ১০ মাসে খাদ্য অধিদপ্তর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৩২ টন গম আমদানি করেছে। একই সময়ে বেসরকারি আমদানিকারকরা ১৩ লাখ ৭২ হাজার ২৬৮ টন গম খালাস নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।
খাদ্য বিভাগ ও চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, ভারতের গুজরাটের কন্দলা বন্দর থেকে ‘এমভি ভি স্টার’ জাহাজে ৫২ হাজার পাঁচশ টন গম খালাস করা হচ্ছে। এর আগে ১৬ মে ভারত থেকে ৫২ হাজার পাঁচশ টন গমের চালান নিয়ে আসে ‘এমভি ইমানুয়েল সি’। বেসরকারি আমদানিকারকদের জন্য ভারত, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে নিয়ে আসা চারটি গমবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে।









