- কুইক রেন্টালের মেয়াদ বৃদ্ধি দুই বছর
- ১১ প্রস্তাবে ৭ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা অনুমোদন
সরকার কুইক রেন্টালের মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধি করেছে। সেখানে নতুন নিয়মও চালু করেছে। বিদ্যুৎ না দিলে বিল পাবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৮ম এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১০ম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা এগুলোর (কুইক রেন্টাল) মেয়াদ বাড়িয়েছি বুঝে শুনেই, আগামী দুই বছরের জন্য। আমরা একসময় নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবো। আমরা কুইক রেন্টালের প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছি একটি শর্তে, নো ইলেক্ট্রিসিটি, নো পেমেন্ট।
মন্ত্রী বলেন, আগে বিদ্যুৎ পাই বা না পাই আমাদের মূল্য পরিশোধ করতে হতো। আমরা এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলেও সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করা দরকার। আমরা বিশ্বাস করি আগামী এক বছরের মধ্যে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবো। যখন আমরা নতুন করে এই বিদ্যুৎ পাবো তখন এগুলোকে (কুইক রেন্টাল) বিলুপ্ত করতে পারবো। কুইক রেন্টাল আগের চেয়ে এখন ভিন্ন। কারণ এগুলোতে যতটুকু ব্যবহার করবো তার মূল্যই দিতে হবে, আগের মতো নয়।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে কেউ লুজার (ক্ষতিগ্রস্ত) নাই, সবাই জিতবে। যারা ব্যবসায়ী তারা আরও মনোযোগী হবেন। তাদের সহযোগিতার জন্য আপনারা সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। আমাদের অবকাঠামো হয়ে গেছে, মানুষ এখন আগের তুলনায় শিক্ষিত-তারা যেকোনো প্রকল্প দাঁড় করাতে পারেন।
বলেন, আমাদের কাজ হবে যারা ব্যবসায়ী তাদের সহযোগিতা করা। সরকারের যেসব পলিসি সেগুলোর সাপোর্ট দিয়ে তাদের আরও সহযোগিতা করবো। একদিকে তারা আয় করবেন, অন্যদিকে তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। যেসব প্রকল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি তাদের আমরা সুযোগ সুবিধা বেশি দেবো।
মুস্তফা কামাল জানান, সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ১টি এবং টেবিলে ১টিসহ ১১টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সরকারি ক্রয়ের প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের ৭টি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ১টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১টি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাবনা ছিল। সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ১১টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ৭ হাজার ৫৭২ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৩ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি হতে ব্যয় হবে ৭,১৩৫ কোটি ৯৯ লাখ ১২ হাজার ৯২৩ টাকা এবং দেশিয় ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন ৪৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ১নং প্রস্তাবনা শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ( ডিএমপি) ৬০ মেট্রিক টন পটাশিয়াম আয়োডেট ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ১ নং প্রস্তাবনা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার ১ কার্গো এলএনজি এস/এম ভাইটাল এশিয়া প্রা. লি. সিঙ্গাপুরের নিকট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ৩৬.৭০ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বমোট ১,২৪১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৭ হাজার ১৯২ টাকায় আমদানির অনুমোদন। ২নং প্রস্তাবনা (সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।)
মুস্তফা কামাল জানান, ৩ নং প্রস্তাবনা হলো শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পরিকল্পনা মোতাবেক কাফকো, বাংলাদেশ হতে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১৮১ কোটি ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন। ৪ নং প্রস্তাবনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের “ইমার্জেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপনস” প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউবি-২ এর আওতায় কমিউনিটি ওয়ার্কসফস অ্যান্ড সাভিৃস সাপোর্ট পূর্ত কাজ বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফপি)র নিকট থেকে ২৫৫ কোটি টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ৫ নং প্রস্তাবনায় বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড যশোর জেলার নোয়াপাড়ায় ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এইচএফও ভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ ইফেক্ট ডেট হতে ২ বছর বৃদ্ধির অনুমোদন। এতে স্পন্সর কোম্পানি খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লি.কে ৪৫৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ৬ নং প্রস্তাবনায় খুলনা জেলার গোয়ালপাড়ায় ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এইচএফও ভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ ইফেক্ট ডেট হতে ২ বছর বৃদ্ধির অনুমোদন। এতে স্পন্সর কোম্পানি খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লি. ইউনিট-১১ কে ১ হাজার ২৯৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
তিনি জানান, ৭নং প্রস্তাবনায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এইচএফও ভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ ইফেক্ট ডেট হতে ২ বছর বৃদ্ধির অনুমোদন। এতে স্পন্সর কোম্পানি ডাচ বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস লি.কে ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ৮ নং প্রস্তাবনায় নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এইচএফও ভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ ইফেক্ট ডেট হতে ২ বছর বৃদ্ধির। এতে স্পন্সর কোম্পানি ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনাঘাট লি. কে ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ৯ নং প্রস্তাবনায় মদনগঞ্জে ১০২ মেগাওয়াট ক্ষমতার এইচএফও ভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ ইফেক্ট ডেট হতে ২ বছর বৃদ্ধির অনুমোদন। এতে স্পন্সর কোম্পানি সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ার লি.কে ১, হাজার ৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০ নং নরসিংদীর ঘোড়াশাল ৪র্থ ইউনিট রি-পাওয়ার্ড কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস টার্বাইন এবং গ্যাস টার্বাইন জেনারেটর অংশের ক্রয়কৃত মালামাল স্থাপন, সুষ্ঠু পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ সেবা জেনারেল ইলেক্ট্রিক গ্লোবাল সার্ভিস জিএমবিএইচ, সুজারল্যান্ডের নিকট থেকে ৯২ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন। ১১ নং হবিগঞ্জের বিবিয়ানা-১১১, ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস টার্বাইন এবং গ্যাস টার্বাইন জেনারেটর অংশের সিডিউল মেইনটেন্স কাজ সম্পাদনের জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ এবং বিশেষজ্ঞ সেবা এম/এস মারবেনি পাওয়ার অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিস্টেম করপোরেশন, জাপান এর নিকট থেকে ৪১৯ কোটি ৯৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৩১ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। টেবিলে উপস্থাপন প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক এস/এস সুইস সিঙ্গাপুর ওভারসেজ ইন্টারপ্রাইজ প্রা. সিঙ্গাপুরের নিকট থেকে ১৭৬ কোটি ২৮ লাখ ৭১ হাজার টাকায় ৫০ হাজার মে.টন (প্লাস ৫ শতাংশ) গম আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে









