- ক্ষতি ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার
- প্রতি মাসে প্রয়োজন ৭০০ কোটি ডলার
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জের ধরে ইউরোপে যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে, তার নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার সুযোগ নেই কোনো দেশেরই৷ বরং এই যুদ্ধ যত জোরদার ও দীর্ঘায়িত হবে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ততই বিপদের আশঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা মহামারীর এ দুর্যোগকালীন পৃথিবীতে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধটি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব ভয়াবহ বলে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে যুদ্ধের প্রভাব পড়তেও শুরু করেছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে দেশে দেশে।
টানা প্রায় দুই মাস ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। রুশ সামরিক বাহিনীর এই আগ্রাসনে ভবন ও অবকাঠামোগত ভাবে ইউক্রেনের ক্ষতি মোটামুটিভাবে ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস। এছাড়া যুদ্ধ চলতে থাকলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ডেভিড ম্যালপাসের ভাষায়, ‘যুদ্ধ এখনও চলছে এবং অবশ্যই ক্ষতির পরিমাণও আরও বাড়বে।’
এদিকে বিশ্বব্যাংকের একটি ফোরামে দেওয়া ভার্চুয়াল বক্তৃতায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার আক্রমণের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রতি মাসে ইউক্রেনের ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। দোভাষীর মাধ্যমে দেওয়া ওই বক্তব্যে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবিলম্বে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে মস্কোর সঙ্গে অবিলম্বে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
জেলেনস্কির অভিযোগ, কৃষ্ণসাগরের ইউক্রেনীয় বন্দরে রাশিয়ার অবরোধ ইউক্রেনের রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপ বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের এই বৈঠকের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেনসহ বেশ কয়েকটি দেশের অর্থ কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়েলেন বলেন, রুশ আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইউক্রেনের পুনর্নির্মাণের কিছু খরচ রাশিয়াকে বহন করা উচিত। তার ভাষায়, ‘এটি স্পষ্ট যে ইউক্রেনে পুনর্নির্মাণের খরচ অনেক বেশি হতে চলেছে।’
এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে জব্দ রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থও ইউক্রেন পুনর্গঠনের কাজে লাগাতে আগ্রহী মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন। তিনি বলছেন, ইউক্রেন পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ করা রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ব্যবহার করা একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হতে পারে। তবে এর জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা ও চুক্তির প্রয়োজন হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে সম্মেলনে ব্যক্তিগতভাবে যোগ দেওয়া ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্যামিহাল বলেছেন, ইউক্রেনের জিডিপি ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া রুশ আগ্রাসনের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইউক্রেনের মোট ৫৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার লোকসান হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রুশ আগ্রাসনের কারণে ডেনিস শ্যামিহাল যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরেছেন তা ইউক্রেনের অর্থনীতির আকারের তিনগুণ বেশি। ২০২০ সালে ইউক্রেনের অর্থনীতির আকার ছিল ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার।
এদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও তিনি এখনও শান্তির আশা পোষণ করেন। তবে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নাই। উল্টো ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় রুশ দূতাবাসের সামনে প্রতিদিন সকালে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। দেশটির তরুণ পুরুষ ও বয়স্করা ইউক্রেনে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে যেতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। অনেকেই সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের সামরিক বাহিনীতে কাজের রেকর্ড।
তবে ইথিওপিয়ার নাগরিকদের ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। এছাড়া কখনও পাঠানো হবে কিনা তাও স্পষ্ট নয়। দূতাবাস থেকে বেরিয়ে আসা এক ব্যক্তি অনুবাদকের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশে বলেন, এই মুহূর্তে রাশিয়ার পর্যাপ্ত সেনা রয়েছে কিন্তু প্রয়োজন পড়লে তাদের ডাকা হবে।









