বর্ষাকাল আসার আগেই তার আগামনী বার্তা পাওয়া যায়। বিশেষ করে কদমের গাছে পাতার ফাঁকে ফাঁকে হলুদ আভায় উঁকি দেয় বর্ষা। ফোটে কেয়া, দোলনচাঁপা, শাপলা কিংবা কামিনী, দোপাটি। ফুলে ফুলে বর্ষা যেন সেজে ওঠে নানান ফুলের সৌরভে। এজন্যই বর্ষাকে বলা হয় প্রকৃতির রানী। বর্ষা এলেই গুণগুণ করে অনেকে গেয়ে ওঠেন- বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল/ করেছ দান,/ আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান/ মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে/ রেখেছি ঢেকে তারে…।
ছোটবেলায় বর্ষা এলেই কদম ফুলের জন্য মনটা উড়ে বেড়ায়। প্রথম ফোটা কদম ফুল ধরার জন্য সবার মন আকুল হয়। তাছাড়া বর্ষার দিনে মন উদাস হয়ে যায়। কখনও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন অনেকে। রবীন্দ্রনাথের গানে সে কথাই মনে পড়ে- পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে/ পাগল আমার মন জেগে ওঠে/ চেনাশোনার কোন্ বাইরে/ যেখানে পথ নাই নাই রে/ সেখানে অকারণে যায় ছুটে/ ঘরের মুখে আর কি রে/ কোনো দিন সে যাবে ফিরে/ যাবে না, যাবে না/ দেয়াল যত সব গেল টুটে…।
বাঙলার বর্ষা পরিক্রমায় আষাঢ় মাসটির সঙ্ড়ে প্রকৃতির যেন নিবিড় সম্পর্ক। আর ‘কদম’ ছাড়া আষাঢ় কল্পনাই করা যায় না। এক সময়ে বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার দুপাশে কদমগাছ ছিল চোখে পড়ার মতো। আর বর্ষার পুরো সময়টাই ফুলে ফুলে ভরে থাকতো গাছ। সাদা-হলুদের মিশ্র রঙের কদম ফুলে ছেয়ে যেতো গাছ। যা দেখে তৃপ্ত হতেন সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ। গ্রামের দুরন্ত শিশুরা কদমতলায় ‘কদম’ ফুল নিয়ে খেলা করত। তবে আজ তা ধীরে ধীরে একেবারেই হারিয়ে যেতে চলেছে।
লাভের অঙ্কের হিসাব মেলাতে মানুষ আর তার বাড়ির আঙিনায় কদম ফুলের গাছ লাগাতে চাইছে না। ‘কদম’ গাছের জায়গায় তারা মেহেগেনি, রেইন্ট্রিসহ নানান দামি কাঠের গাছ রোপণে ঝুঁকছে। শুধু কি তাই? বাঙলার চিরন্তন সেই বর্ষার রূপ আর নেই। সাধারণত বর্ষা আসে জুনের একেবারে শুরুতে। অনেক সময় মে মাসেও চলে আসে। গেল বছরে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়েছিল বিলম্বে। আবার বর্ষার বিদায়ও হয়েছে বিলম্বে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বর্ষা যেমন দেরিতে আসছে তেমনি বিদায়ও নিচ্ছে দেরিতে। গত দেড় দশকে বর্ষার এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মূলত বর্ষার সময়কাল সরে যাচ্ছে ১০ থেকে ১৫ দিন। আগে মে মাসের শেষের দিকে বর্ষা শুরু হতো। শেষ হতো সেপ্টেম্বরের শেষে। এখন বর্ষা শুরু হতে জুনের মাঝামাঝি সময় লেগে যাচ্ছে। আর শেষ হচ্ছে অক্টোবর পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে।
আনন্দবাজার/শহক









