গম রপ্তানি নিষিদ্ধের পর এবার চিনি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ যাচ্ছে ভারত। দেশটির সরকার স্থানীয় বাজারে দাম কমানোর লক্ষ্যে গত ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবার চিনি রপ্তানি সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশটির এমন সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক খাদ্য পরিস্থিতি আরও বড় সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম চিনি উৎপাদক ভারত। চিনি রপ্তানিতে তাদের অবস্থান কেবল ব্রাজিলের পেছনে। কিন্তু ভারতীয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, এ বছর দেশটি চিনি রপ্তানির পরিমাণ মাত্র এক কোটি টনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে।
গত মার্চ মাসে রয়টার্স জানিয়েছিল, স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি রোধ ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা নিশ্চিত করতে চিনি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করছে ভারত। প্রাথমিকভাবে দেশটি চিনি রপ্তানির সীমা ৮০ লাখ টন করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু পরে স্থানীয় কারখানাগুলোকে বিশ্ববাজারে আরও কিছু চিনি বিক্রির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের উৎপাদন পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। সংগঠনটির আগের পূর্বাভাসে চিনি উৎপাদন ৩ কোটি ১০ লাখ টন বলা হয়। তবে নতুন পূর্বাভাসে সম্ভাব্য উৎপাদন ৩ কোটি ৫৫ লাখ টন বলা হয়েছে।
চলতি ২০২১০২২ বিপণনবর্ষে সরকারি ভর্তুকি ছাড়া ভারতীয় কারখানাগুলো এখন পর্যন্ত ৮৫ লাখ টন চিনি রপ্তানির চুক্তি করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭১ লাখ টন চিনি বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে তারা।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক মুম্বাই-ভিত্তিক এক ডিলার জানান, এক কোটি টনের সীমা যথেষ্ট বড়। এতে কারখানা ও সরকার উভয়ই খুশি থাকবে। তিনি আরও জানান, এক কোটি টন রপ্তানির পর আগামী ১ অক্টোবর ২০২২-২৩ মৌসুম শুরুর সময় ভারতে চিনির মজুত দাঁড়াতে পারে মোট ৬০ লাখ টন, যা উৎসব মৌসুমের চাহিদা পূরণ করতে যথেষ্ট।
আনন্দবাজার/টি এস পি









