আর্থিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যে ঋণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে তার সঙ্গে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে। যার মধ্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা সংস্কারের শর্ত অন্যতম। ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তায় এসব শর্ত পূরণ করবে সরকার। আর তাতে বিদ্যুতে ভর্তুকি বন্ধ কিংবা কমিয়ে আনতে হবে। আর সেটা করতে গেলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।
আইএমএফের এশীয় ও প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বাধীন একটি দল গত ২৬ অক্টোবর ঢাকায় আসার পর থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করছে। বৈঠকে তারা ভর্তুকি খাতে সংস্কারসহ বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমিয়ে আনা। তাছাড়া আমদানির জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা ও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা তৈরি করা ইত্যাদি।
অর্থনীতির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ, ব্যয় ও বাজেটের সামঞ্জস্য, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি সমন্বয়ে গত জুলাইয়ে আইএমএফের কাছ থেকে ৪৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার আবেদন করেছে বাংলাদেশ। সেই ঋণ দেয়ার আগে বাংলাদেশে পরিদর্শনে এসেছে প্রতিনিধি দল। তারা যেসব বৈঠক করছে, তাতে আইএমএফের ঋণ পেতে তাদের দেয়া শর্তগুলো স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে। আর বাকি শর্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের অঙ্গীকার চাওয়া হয়েছে।
আইএমএফের মতে, ভর্তুকির বড় একটি অংশ বরাদ্দ দেওয়া হয় ঋণ থেকে। যা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে এনে যথাযথ নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। বিদ্যুতের ভর্তুকির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হবে। সামঞ্জস্য বজায় রেখে ভর্তুকির পরিমাণ নির্ধারণের বিষয় আলোচনা হবে। এসব আলোচনার পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তবে আইএমএফের ঋণ সহায়তা চাওয়ার আগেই গত জুনে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২৩ শতাংশ ও এলএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৯১ পয়সা করা হয়। পরে আগস্ট মাসে জ্বালানি তেলের দাম ৪৮ শতাংশ বাড়ানো হয়। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এ কারণে বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৬৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ( বিপিডিবি)। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ ও মানুষের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব তখন নাকচ করে দেয়।
আনন্দবাজার/শহক









