শীত জেঁকে বসার সময় হলো টানাবৃষ্টি। বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে কৃষকের পাকা ধান। প্রকৃতির এ বিরুপ আচরণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। গত কয়েকদিনের দিনের ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ফেনীতে এক হাজারেরও বেশি কৃষকের আমন ধানসহ বিভিন্ন শীতকালীন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারীবর্ষণের ফলে জেলার ৩০৫ হেক্টর জমির আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কান্তি সেন জানান, অসময়ের এ বৃষ্টিতে অনেক কৃষক তার উৎপাদিত ফসল উৎপাদন করেও ঘরে তুলতে পারেনি। এ বৃষ্টিতে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জেলায় ৩০৫ হেক্টর আমন, ৭১৫ হেক্টর শীতকালীন সবজি, ৩ হেক্টর মাসকলাই, ৮০ হেক্টর ধনিয়া, ১২৫ হেক্টর খেসারী, ৮১ হেক্টর মরিচ, ২২৩ হেক্টর শসা, ৩৬৭ হেক্টর সরিষা, ৬ হেক্টর মসুর, ১ হেক্টর আলু, ৬ হেক্টর ভুট্টা এবং ৫৬ হেক্টর বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সঞ্জয় কান্তি সেন আরও বলেন, বৃষ্টি বন্ধ হলে জমির পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর এ সাপ্তাহের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যাবে।
পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর গ্রামের কৃষক ইউনুছ বলেন, আমনের ভালো ফলন হলেও ফসল কাটার পর বৃষ্টির জন্য বাড়ি আনতে পারিনি। চলমান অবস্থার উন্নতি না হলে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কার কথা বলেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক শাহ আলম বলেন, দুই কানি জমিতে আমন চাষ করেছিলাম। বৃষ্টির জন্য ফসল এখন বাড়ির উঠানেই নষ্ট হচ্ছে।
ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা গ্রামের অহিদুন নবী চৌধুরী বলেন, গ্রামের পশ্চিম পাড়া অংশে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতক জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
পরশুরাম উপজেলার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা পিন্টু কুমার দাস বলেন, উপজেলায় আবাদ করা আমনের প্রায় ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে কর্তন করা হয়েছে। আমনে ক্ষতির পরিমাণ কম হলেও শীতকালীন বিভিন্ন ফসল অতিবৃষ্টিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তারিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা যাতে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেন এ জন্য জেলা কৃষি বিভাগ সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









