দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গেল সাপ্তাহিক টপটেন লেনদেনে ভালো মৌলভিত্তিক কোম্পানির শেয়ার দর কদর বেড়েছে। সপ্তাহটিতে ‘এ’ক্যাটাগরির ৮০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার টপটেন লেনদেনে অবস্থান করেছে। এসময় ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬ হাজার ১৪৯ কোটি ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ৯২০ টাকার শেয়ার। সপ্তাহটিতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি ১ হাজার ৮৩৫ কোটি ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বা ২৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করেছে।
গেল সপ্তাহে টপটেন লেনদেনের শীর্ষে থাকা ‘বি’ক্যাটাগরির বেক্সিমকো একাই ৪৮৫ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকার বা ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ১৫৩ দশমিক ৫০ টাকা। যা আগের সপ্তাহে বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) শেয়ার প্রতি দর ছিল ১৬০ দশমিক ৫০ টাকা। সপ্তাহটিতে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর পতন হয়েছে ৬ দশমিক ৯০ টাকা বা ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। এসময় কোম্পানিটির ৩ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৪টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটি পরিশোধিত মূলধন ৮৭৬ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার। শেয়ার সংখ্যা ৮৭ কোটি ৬৩ লাখ ১৮ হাজার ৮৭৯টি।
ডিএসইর সূত্রে জানা যায়, গেল সপ্তাহে টপটেন গেইনার তালিকায় ৬০ শতাংশ ‘এ’ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান করেছে। টপটেন লুজারে অবস্থান করেছে ৪০ শতাংশ ‘এ’ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া টপটেন লেনদেনে ৮০ শতাংশ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারের দাপট ছিল। অপরদিক টপটেন গেইনারে ৩০ শতাংশ ‘বি’ক্যাটাগরি এবং ১০ শতাংশ ‘এন’ক্যাটাগরি শেয়ার অবস্থান করেছে। লুজারে ৩০ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরি, ২০ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং ১০ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান করেছে। এছাড়া টপটেন লেনদেনে ২০ শতাংশ ‘বি’ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান করেছে। এই ধরনের চিত্রকে সবাই স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টারা।
ডিএসইর সূত্র মতে, “গত সপ্তাহের শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করে ১৬ দশমিক ৮০ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ১৬ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও কমেছে দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৭ শতাংশ।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৫ পয়েন্ট ছাড়ালেই তা বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। এ হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিই ধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানান বিএসইসি। সেই হিসেবে বৃহস্পতিবার ডিএসইর পিই দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৮০ পয়েন্টে। মানে পিই হিসাবে বিনিয়োগ নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ার ‘বি’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির থেকে তুলনামূলক ভালো বিধায় নিয়ম অনুসারে, যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে তার ঊর্ধ্বে লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নিচে থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারা ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। আবার যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নিচে থেকে শুরু জিরো লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘জেড’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া ‘এন’ ক্যাটাগরি নতুন কোম্পানির শেয়ার। যেগুলোর পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু হয়েছে কিন্তু বছর পার হয়নি, সেইগুলো ‘এন’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করেছে ব্যাংক খাতের ৮ পয়েন্টে, জ্বালানি শক্তি খাতের ১২ দশমিক ৯০ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ১৭ দশমিক ৩০ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৭ দশমিক ৮০ পয়েন্টে, ওষুধ রসায়ন খাতের ১৯ দশমিক ৩০ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৯ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ১৯ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, সাধারণ বীমা খাতের ২০ দশমিক ৩০ পয়েন্টে, সেবা আবাসন খাতের ২৮ দশমিক ৮০ পয়েন্টে, নন ব্যাংকি আর্থিক খাতের ২৮ দশমিক ৯০ পয়েন্টে, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ৩১ দশমিক ৯০ পয়েন্টে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ৩৩ দশমিক ৯০ পয়েন্ট এবং সিরামিক খাতের ৩৮ দশমিক ৩০ পয়েন্টে ।
গেল সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯টির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। সপ্তাহটিতে ‘এন’ ক্যাটাগরির ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি ছিল। সপ্তাহটিতে লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এ বৃদ্ধির মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন গেইনারে শীর্ষে উঠে আসে। গেল সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৬৮টির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। সপ্তাহটিতে ‘এ’ ক্যাটাগরির তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে কম ছিল। লেনদেন মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই কমার মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন লুজারের শীর্ষে উঠে আসে। এছাড়া সপ্তাহটিতে ‘বি’ ক্যাটাগরির বেক্সিমকোর শেয়ার অর্থের পরিমানে লেনদেন শীর্ষে উঠে আসে। ওই সপ্তাহে কোম্পানিটি ৪৮৫ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়। এ মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে।
গেল সপ্তাহে টপটেন গেইনারে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে কুইন সাউর্থ টেক্সটাইল ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ, বাংলাদেশ ল্যাম্পস ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ, ইয়াকিন পলিমার (বি ক্যাটাগরি) ২৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ, সোনারগাঁ টেক্সটাইলস (বি ক্যাটাগরি) ১৮ দশমিক ৩২ শতাংশ, মালেক স্পিনিং ১৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ১৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ন্যাশনাল টি ১৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বি ক্যাটাগরি) ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং তাকাফুল ইসলামি ইন্স্যুরেন্স ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ করে শেয়ার দর বেড়েছে।
ওই সপ্তাহে টপটেন লুজারে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে কাট্রালি টেক্সটাইল ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ, পেপার প্রসেসিং (জেড ক্যাটাগরি) ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, প্রিমিয়ার সিমেন্ট ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল (বি ক্যাটাগরি) ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গ্লোডেন সন (বি ক্যাটাগরি) ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ, একমি পেস্টিসাইডস (এন ক্যাটাগরি) ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, মুন্নু ফেব্রিক্স (জেড ক্যাটাগরি) ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ, জুট স্পিনার্স (জেড ক্যাটাগরি) ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং জিবিবি পাওয়ার ৮ দশমিক ১১ শতাংশ করে শেয়ার দর কমেছে।
এছাড়া টপটেন লেনদেনে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ৩৪৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা, পাওয়ার গ্রিড ১৭১ কোটি ৬ লাখ টাকা, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ১৩০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, আরএকে সিরামিক ১২৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ১২৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা, এপেক্স ফুটওয়্যার ১১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, ফু-ওয়াং ফুড (বি ক্যাটাগরি) এবং ওরিয়ন ফার্মা টাকার শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়।
আনন্দবাজার/শহক









