মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে কাল বৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে অনেক জমিতে ধান নুয়ে পড়েছে। জমিতে আধাপাকা ও আধাকাঁচা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলায় চলতি বছর ৯ হাজার হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হচ্ছে। ধানের ওপর প্রদর্শনী (রাজস্ব) রয়েছে মোট ৫০টি। কিছু দিনের মধ্যেই আড়িয়াল বিলের বিভিন্ন জমিতে আগাম ধান কাটা শুরু হবে। ধানি জমিতে পানি ঢুকে পড়া, কৃষি শ্রমিক সংকটসহ বৃষ্টির সার্বিক পরিস্থিতির কারণে এ অঞ্চলের শতশত ধান চাষির চোখে মুখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন চকে/বিলে ধানের আবাদ করা হয়েছে। অধিকাংশ জমিতেই ধান এখন আধাকাঁচা অবস্থায় রয়েছে। কোন কোন জমিতে ধানে সবেমাত্র শীষ আসছে। গত বুধবার বৈশাখী ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জমিতে অপরিপক্কা ধান নুয়ে পড়তে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও পড়া ধানের গোছা একত্রে বেঁধে দাড়ানোর চেষ্টা করছেন কৃষক।
লক্ষ্য করা যায়, এ অঞ্চলে হাইব্রিড ২৮ ও ২৯ জাতের ধানের আবাদ করা হচ্ছে। অপরদিকে বির্স্তীণ আড়িয়াল বিলের শ্রীনগর উপজেলা অংশে অধিকাংশ জমিতে ধান কাটার অপেক্ষায় আছে। ধারনা করা হচ্ছে আসন্ন ঈদের পরপরই পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে আড়িয়াল বিল এলাকায়। আড়িয়াল বিলের কোন কোন পয়েন্টে খালের জোয়ার ও বৃষ্টির পানি জমিতে ঢুকে পড়ায় ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় করছেন। জানা গেছে, এর আগে মাটি খেকোরা আড়িয়াল বিল-মদনখালী খালের পাড়ের মাটি কেটে নেয়ার ফলে জোয়ারের পানি ঢুকে প্রায় ৩০০ হেক্টর ধানি জমি প্লাবিত হয়।
উপজেলার কুকুটিয়ার রিপন মিয়া ও বীরতারার শংকর দাস বলেন, ঝড়ের কারণে তাদের জমিতে অধিকাংশ ধানের গোছা পড়ে গেছে। ধানের গোছাগুলো বেঁধে দাড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ধানের ফলন কম ও চিটা বেশী হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
শ্যামসিদ্ধি এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আড়িয়াল বিলে প্রায় ২০০ শতাংশ জমিতে ২৮ জাতের ধান চাষ করেছেন। ধান প্রায় পরিপক্কর দিকে। ঝড় ও বৃষ্টির কারণে জমিতে বেশীরভাগ ধান পড়ে গেছে। এতে জমির ধান কাটতে ভোগান্তির সৃষ্টি হবে।
শ্রীধরপুর এলাকার মো. হাসেম, চান্দু মিয়া জানান, জমিতে খালের পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি ঝড়েও ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এতে জমির পাকা ধান কাটার জন্য আধুনিক রিপার মেশিন ও হারভেস্টার ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছেনা। এতে অধিক কৃষি শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। সার্বিক পরিস্থিতিতে ধান চাষে খরচের হিসাব বেড়েই যাচ্ছে।
শ্রীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার শান্তনা রানী জানান, উপজেলায় এ বছর ৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে আড়িয়াল বিলের শ্রীনগর অংশে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। জমিতে পড়ে যাওয়া পরিপক্ক ধান কাটার জন্য স্থানীয় কৃষকদের পরমর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন জমি পরিদর্শন করছি। ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ধারনা করা হচ্ছে ঈদুল ফিতরের পরপরই আড়িয়াল বিল এলাকায় পুরোদমে পাকা ধান কাটা শুরু হবে।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকের পাকা ধান কাটা ও ফসল ঘরে তুলতে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।
আনন্দবাজার/শহক









