- রাজবাড়ীতে কেজি ৫০
রাজবাড়ীতে খুচরা পর্যায়ে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। তবে চৈত্র মাসে নতুন হালি পেঁয়াজ বাজারে আসলে পেঁয়াজের দাম কমতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজবাড়ীতে এ বছর পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় জেলায় পেঁয়াজের আবাদ দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। কৃষকরা জানান, যদি ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি না হয় তাহলে ভালো দাম পাবেন তারা।
দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে রাজবাড়ী জেলার অবস্থান। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ১৪ শতাংশ উৎপাদন হয় রাজবাড়ীতে। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই পেঁয়াজ চাষ হয়। তবে জেলার কালুখালী, বালিয়াকান্দি ও পাংশা উপজেলায় পেঁয়াজের চাষাবাদ বেশি। এ জেলায় মুড়িকাটা ও হালি পেঁয়াজের আবাদ করেন চাষিরা।
কৃষকরা জানিয়েছেন, পেঁয়াজ রোপণের ৯০ দিনের মধ্যে ফলন তোলা যায়। প্রতি বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে কৃষকদের ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘায় পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ৫০ থেকে ৬০ মণ। চলতি মৌসুমে শ্রমিকের মজুরি, সেচ, কীটনাশক ও বীজের দাম বেশি হওয়ায় খরচ বেড়েছে চাষিদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে রাজবাড়ীতে ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও চাহিদা বেশি থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত মুড়িকাটা ও হালি পেঁয়াজ মিলে ৩৪ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে। আর হালি পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে ২৯ হাজার ৬৫০ হেক্টরে। এরই মাঝে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি শেষ পর্যায়ে। বৈরী আবহাওয়া ও ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে এ বছর রাজবাড়িতে প্রায় ১ হাজার ৩৬২ হেক্টরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও অসময়ের বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় হালি পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এখন কৃষকের ঘর প্রায় পেঁয়াজ শূন্য। বাজারে কমে এসেছে পেঁয়াজের সরবরাহ। এতে করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। নতুন হালি পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরও ৩০ দিনের মতো সময় লাগবে।
রাজবাড়ী বড় বাজারের পাইকারী পেঁয়াজ বিক্রেতা জয়নাল বলেন, আমরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ ক্রয় করছি। ক্রেতার কাছে খুচরা প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করছি। এখন বাজারে পেঁয়াজের সংকট। কদিন পরে চৈত্র মাসে হালি পেঁয়াজ বাজারে আসলে পেঁয়াজের দাম কমতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এস এম সহিদ নূর আকবর জানান, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হলেও আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে গিয়ে তাদের সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রায় শেষের দিকে। চৈত্র মাসের প্রথম থেকে হালি পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তখন হয়তো দাম কমে আসতে পারে।









