প্রাকৃতি সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সিলেট। এ জেলার সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর উজানে ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্টে সাদা পাথর রাজ্য। এ রাজ্য টানে পর্যটকদের, প্রকৃতিপ্রেমীদের। সেই সাদা পাথরে চোখ পড়েছে লুটেরাদের। রাতের আঁধারে চুর হচ্ছে সাধা পাথর। রজমান মাস উপলক্ষে পর্যটক কম থাকায় রাতের আঁধারে চুরি হচ্ছে সাদা পাথর। এতে সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে দেশের অন্যতম প্রকৃতিকন্যা ভোলাগঞ্জ পর্যটনকেন্দ্র। পাথর চুরির ঘটনায় গত বুধবার পুলিশ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভোর রাতে স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা ও পুলিশের একজন লাইন ম্যানকে চাঁদা দিয়ে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্রের পূর্ব পাড় থেকে পাথর চুরি করে উপজেলার কালাইরাগ ও কলাবাড়ির এলাকায় ক্রাশার মিলে বিক্রি করা হয়। এ পাথর চুরি ঘটনার সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ থানাপুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর চুরি হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে থানার এসআই সুকমল ভট্টাচার্য অবগত আছেন। তিনি সুযোগ দিয়েছেন বলেই অপরাধীরা সরকারি সম্পত্তি চুরি করতে পেরেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ- সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্রটি ভারত সীমান্তবর্তী। দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সহযোগিতা ছাড়া এখান থেকে পাথর চুরি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পর্যটন কেন্দ্রের পাথর চুরি ঘটনা স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা জানতে পারায় তড়িঘড়ি করে চোরাইকৃত পাথরের একটি ট্রাক্টর জব্দসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সরেজমিন কলাবাড়ি এলাকার ক্রাশার মিলে গেলে দেখা যায়, পাথরবাহী একাধিক ট্রাক্টর দিয়ে পাথর পরিবহন করে ক্রাশার মিলে রাখা হয়েছে। সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র এলাকার বাসিন্দারা জানান, ইদানিং রাতের আঁধারে পর্যটন স্পটের পাথর চুরি করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এতে সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে সিলেটের অন্যতম এই পর্যটন কেন্দ্র। এভাবে যদি সাদা পাথর চুরি করা হয় তবে কয়েক মাসের মধ্যে পর্যটন কেন্দ্রের সব পাথর লুট হয়ে যাবে। এতে করে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে আসার আগ্রহ হারাবেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, রাতের আঁধারে পাথর চুরির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাথর পরিবহনের গাড়িসহ দ্ইু অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপরাধ অপরাধই। অপরাধের সঙ্গে যে কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং বলেন, পর্যটন কেন্দ্র্রের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করা ও রক্ষা করা প্রশাসনের কাজ। পর্যটন স্পটের সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। বর্তামনে সাদা পাথর এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।









