গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদীবেষ্টিত নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ অনেক উঁচু এলাকায় আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে । অনেক বীজতলা ক্ষতিগস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক চাষি নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৪৪৩ হেক্টর জমি। এ জন্য কয়েক হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছিল।
জানা যায়, শ্রাবণের মাঝামাঝি থেকে ভাদ্রের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আমনের চারা রোপণ করা হয়। বীজতলা করা হয় আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। এবারও চাষিরা সময়মতো বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে গত সপ্তাহ থেকে ভারি বর্ষণে নিচু এলাকার সব বীজতলা ডুবে যায়। যেসব এলাকার পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো, সেখানে বৃষ্টির পানি নেমে গেলেও বীজতলার অবস্থা ভালো নয়।আর অনেক এলাকার বীজতলা এখনো পানির নিচে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে ৮০ শতাংশ বীজতলা ডুবে যায়। অনেক স্থানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক হেক্টর জমির বীজতলা পুরো নষ্ট হয়েছে।
সুন্দর খাতা গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর ৫ একর জমিতে আমন চাষের পরিকল্পনা করেছিলাম। ১৫ দিন আগে বীজতলা তৈরি করেন। চারা কিছুটা বড়ও হয়েছিল। এখন বীজতলায় হাটু পানি থই থই করছে। বর্তমানে সেই বীজ দিয়ে এক একর জমি রোপন করা সম্ভব হবে না।
উত্তর তিতপাড়া গ্রামের বাদশা সেকেন্দার জানান, বীজতলা তৈরী করে আমন ধানের বীজ রোপন করেছি। টানা বৃষ্টির ফলে চারা নষ্ট হয়ে গেছে। পূণরায় বীজতলা তৈরী করে আমন ধানের বীজ বপন করেছি।
দোহল পাড়ার কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, অধিকাংশ চাষির বীজতলা পানির নিচে। চারার মাথায় পচন ধরেছে। এ চারা রোপণ করা যাবে না। অনেকে নতুন করে বীজতলা তৈরির চেষ্টা করছেন। এতে খরচ বাড়বে। অনেকে ভালো বীজ জোগাড় করতে পারছেন না। নতুন বীজতলার চারা রোপণের উপযোগী হতে মৌসুমে শেষ দিকে চলে আসবে।
কৃষকদের অভিযোগ, খনন না হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন নদীর তলদেশ পলি জমে উঁচু হয়ে গেছে।
অধিকাংশ খাল ভরাট হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রয়োজনের সময় যেমন পানি সরছে না, তেমনি দিন দিন নদীর নাব্যতা কমছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, অনেক বীজতলা পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কোনো সমস্যা হবে না। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মতো পরিচর্যা করলে বীজতলার ক্ষতি কমবে।এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রনোদনার আওতায় আগাম জাতের ধান বীজ দেওয়া হবে। প্রনোদনার এই বীজ বপনের ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে জমিতে রোপণ করা যাবে বলে তিনি জানান।









