ভারতে একের পর আঘাত হেনে যাচ্ছে নানা দুর্যোগ। কয়েকদিন আগেই করোনা সংক্রমিত দেশের তালিকায় শীর্ষ দশে উঠে এসেছে ভারত। করোনার মধ্যেই তাণ্ডব চালিয়ে গেছে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এমন সংকটময় সময়েই দেশটির পাঁচটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে পঙ্গপালের ঝাঁক। প্রবলবৃষ্টিপাতে আসামে শুরু হয়েছে বন্যা। এমন পরিস্থিতিতে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উত্তর ভারতে দেখা দিয়েছে তীব্র দাবদাহ।
মঙ্গলবার ১৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেশটির রাজধানী দিল্লিতে তাপমাত্রা উঠেছিল ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পালাম অঞ্চলে তাপমাত্রা ছিল ৪৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৬ ডিগ্রি বেশি৷
রাজস্থানের তাপমাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি৷ রাজ্যের চুরু জেলায় মঙ্গলবার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। গত ১০ বছরে ওই অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল এটি৷ ২০১৬ সালের ১৯ মে চুরুতে তাপমাত্রা উঠেছিল ৫০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷
গত এক দশকের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি দাবদাহে পুড়ছে ভারত। বৈশ্বিক তাপমাত্রা পর্যবেক্ষক ওয়েবসাইট এল ডোরাডো জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থান ছিল রাজস্থান।
গত ১৬ মে থেকে প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে প্রবল বন্যার মুখে পড়েছে আসাম৷ ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ায় রাজ্যের পাঁচটি জেলা তলিয়ে গেছে। প্রতি ২-৩ ঘণ্টায় ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র নদীতে। ১২৭টি গ্রামের ৫৭৯ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে বন্যাযর কারণে৷ গোয়ালপাড়া জেলায় ৩৩টি রিলিফ ক্যাম্পে ৮ হাজারের বেশি বন্যাকবলিত মানুষকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে৷
এদিকে ভারতে পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের পাঁচটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে পঙ্গপালের ঝাঁক। রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশের একাধিক গ্রামে ও শহরে ঢুকে পড়েছে এসব পঙ্গপালের দল। লকডাউনের মাঝে ফসলের জমিতে পঙ্গপালের এই হানায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সেখানকার কৃষকরা।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









