আনারস চাষের জন্য বিখ্যাত টাংগাইলের মধুপুর। আনারস চাষের জন্য আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি থেকে অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি সময় চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। সেচ সুবিধা থাকলে মাঘ মাসের মাঝামাঝি থেকে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আনারসের চারা লাগানো যায়।
মধুপুর গড় অঞ্চলের বেরিবাইদ, আউশনারা, অরনখোলা ইউনিয়নের চাষিরা আনারস চাষের পাশাপাশি আনারসের বাগানে সাথি ফসল হিসেবে পেঁপে, কচু, আদা, হলুদ, মরিচ, চম্পাকলাসহ বিভিন্ন সাথি ফসল চাষ করে থাকেন। অনেকে সাথি ফসল চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন। এসব সফল চাষিদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় আনারস বাগানে সাথি ফসল চাষ শুরু করেছেন অনেক নতুন কিশোর উদ্যোক্তা।
সরজমিনে দেখা যায়, বাগানের মাঝে নির্দিষ্ট দূরত্বে পেঁপের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন আনারস চাষিরা। দানকবান্দা গ্রামের আনারস চাষি সিপন আহমেদ জানান, এক বিঘা জমিতে ৩৫শ’ থেকে ৩৮শ’ আনারসের চারা লাগানো যায়। খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। বিক্রি করা যায় ৭৫ থেকে ৯৫ হাজার টাকা। একই জমিতে আনারস বাগানের ১৫০ থেকে ২০০টি পেঁপের চারা লাগানো যায়। পেঁপের চারার জন্য অল্প টাকা বাড়তি খরচে এক বিঘা থেকে পেঁপে বিক্রি করা যায় প্রায় একলাখ টাকা। যা বাড়তি আয়। আমি গত বছর দেড় বিঘা জমি থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকার আনারস ও পেঁপে বিক্রি করেছি। আমি অনেক লাভবান হয়েছি।
কৃষক নাজমুল ইসলাম বলেন, আমি গত বছর একবিঘা জমির জলডুগি আনারস বিক্রি করেছি একলাখ ছয় হাজার টাকা। সাথি ফসল চাষ না করে আমি ভুল করেছিলাম। শুধুমাত্র ২শ’ পেঁপের চারা লাগালে পেঁপে বিক্রি করে আরও ৮০ হাজার থেকে একলাখ টাকা। আমার দেখা মতে অনেকে আনারস বাগানে সাথি ফসল হিসেবে পেঁপে চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তাই চলতি বছর আমি ৩ বিঘা জমিতে আনারস এবং পেঁপে রোপন করছি। আশাকরি ফলন ভালো পাবো। বর্তমানে তুলনামুলকভাবে খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় গ্রামের অনেক কৃষকরা সাথি ফসল চাষ করছেন।









