গাজীপুরে ১৫ থেকে ২০ হাজার কৃষক কলাচাষ করছে। উৎপাদিত কলা বিক্রি করে বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা আয় হয়। উন্নত জাতের টিস্যু কলা চাষের জন্য কৃষকদের উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে
গত ২০২০-২১ অর্থ বছরে সদর উপজেলায় কলা আবাদের পরিমাণ ছিলো ৪শ’ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭ হাজার ৫শ’ টন। কাপাসিয়া উপজেলায় চাষাবাদ হয় ৭১০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭ হাজার ২২৯ টন
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা নদী। পূর্ব-দক্ষিণে রয়েছে পাশ্ববর্তী নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার কূল ঘেঁষে বয়ে চলা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ। যা লোকমুখে (মরা গাঙ) নামেও সমধিক পরিচিত। আর এ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকা অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে চাষ হয়ে আসছে কলা। যা গত কয়েক বছর ধরে ব্যাপকহারে রুপ নেয়। এভাবেই কলা চাষের সঙ্গে জড়িত হয়ে নিজেদের আর্থিক দৈন্যতাকে দূর করে স্বাবলম্বী হয়েছেন কলা চাষিরা। কলা চাষেই চাঙ্গা কাপাসিয়ার কৃষি অর্থনীতি। একইভাবে গাজীপুরে শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কালিগঞ্জেও হচ্ছে কলার বাণিজ্যিক চাষাবাদ।
বিশেষ করে অমৃত সাগর (সাগর) ও চম্পা কলার চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানকার চম্পা ও সাগরকলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশজুড়েই। অন্য ফসলের তুলনায় কলাচাষে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম। তাই উপজেলার প্রায় সব জায়গাতেই বাড়ছে কলার আবাদ। যদিও কলা একটি দীর্ঘ মেয়াদি ফসল তবে এতে লাভের পরিমাণটা অন্য ফসলের তুলনায় বেশি হওয়ায় কৃষক কলাচাষে আগ্রহী হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, গত ২০২০-২১ অর্থ বছরে সদর উপজেলায় কলা আবাদের পরিমাণ ছিলো ৪শ’ হেক্টর জমিতে। যেখান থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৭ হাজার ৫শ’ টন। কাপাসিয়া উপজেলায় আবাদের পরিমাণ ধরা হয়েছিলো ৭শ’ ১০ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৭ হাজার ২২৯ টন। শ্রীপুরে আবাদের পরিমাণ ধরা হয়েছিলো ১১২ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়ছিলো ২ হাজার ৫২ টন। কালিয়াকৈরে কলা আবাদের পরিমাণ ধরা হয়েছিলো ১শ’ হেক্টর জমিতে এবং সেখান থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৩ হাজার ৪২০ টন। কালীগঞ্জ উপজেলায় কলা আবাদের পরিমাণ ধরা হয়েছিলো ৬৩ হেক্টর জমিতে আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ১ হাজার ৮৯০ টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা যায়, গত বছর জেলার পাঁচ (৫) উপজেলা মিলে সর্বমোট কলা আবাদের পরিমাণ ছিলো ১ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২২ হাজার ৯১ টন। যা ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। সেই সঙ্গে চলতি বছর কলা আবাদের পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে।
কাপাসিয়া উপজেলার চরখিরাটী এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে উঠা চরের ভূমিতে কলা চাষ করেন দুলাল মিয়া (৬০)। তিনি বলেন, দুই একর জমিতে আমার সবরি ও সাগর কলার বাগান। দুই বাগান মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার গাছ লাগিয়েছি। প্রতিটি গাছে আমার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১শ’ টাকার মতো। যদি কোনো ধরণের রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমণ না হয়, তাহলে প্রতিটি গাছ থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার কলা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এক বিঘা জমিতে কলা রোপণ করতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। যদি ফলন ভালো হয় তাহলে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মতো বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের চরদুর্লভখাঁ এলাকার কলা চাষি ও ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলা চাষ করেই তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। কারণ কলা চাষ ও ব্যবসার আয় থেকেই চলে পাঁচ সদস্যের পরিবারের সকল খরচ। বছরে তার ৩ বিঘা জমি থেকে প্রায় কয়েক লাখ টাকার কলা বিক্রি হয়। তিনি আরো বলেন, চরাঞ্চলে প্রায় আরো দুই শতাধিক কলার বাগান রয়েছে। প্রতিটি বাগান গড়ে ১ থেকে ৩ একর জমির উপর।
কলা চাষিরা জানান, কাপাসিয়ায় প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজারের অধিক কলা চাষি রয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কৃষক কলা চাষ করছে। উৎপাদিত কলা বিক্রি করে বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা আয় হয়। উন্নত জাতের টিস্যু কলা চাষের জন্য কৃষকদের উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।









