নিবেন গো কুলা, ঝাঁকা, মোড়া, মাদুর। গলা ছেড়ে এমন ডাক দিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে কুটির শিল্পের বাঁশ ও প্লাস্টিক পণ্যের বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে বেড়াচ্ছেন আব্দুর রহিম। বয়স তার ৫০ বছর। প্রায় তিন যুগ ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফেরি করে পণ্য বিক্রি করাই তার ব্যবসা। এতেই চলে তার সংসার। জীবনের প্রয়োজনে এমন সংগ্রাম তার চলছেই।
আব্দুর রহিমের বাড়ি রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকায়। সাত সদস্যের পরিবার তার। দুই ছেলে। বড় ছেলে ব্যবসা করে। ছোট ছেলে বিএ পড়ছে। সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলেদের লেখাপড়া শিখিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কেশরহাট থেকে বাঁশ শিল্পের কুলা, ঝাঁকা, মোড়া, চালনাসহ বিভিন্ন জিনিস ও নওগাঁর হালিয়াহাট, সুতির হাট এবং রানীনগর হাট থেকে প্লাস্টিক শিল্পের মাদুর কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফেরি করে বিক্রি করে বেড়ান তিনি। মালাপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে কয়েক দিনের জন্য বের হয়ে যান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। রাত্রী বেলায় কোনো মোড়ের দোকানের বারান্দায় মালামাল নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল হলেই আবার শুরু হয় ফেরি করা।
রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার পিরিজপুর গ্রামে ফেরি করার সময় কথা হয় আব্দুর রহিমের সঙ্গে।
আব্দুর রহিম বলেন, ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফেরি করে বেড়াচ্ছি। কুটিরশিল্পের মালামাল কিনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। মালামাল বিক্রি করে ২০ থেকে ৩০ দিন পর বাড়িতে ফিরে যাই। কখনো কখনো আরও কম সময়ে বাড়ি যায়। এখন গোদাগাড়ি উপজেলায় ফেরি করছি। রাত্রী হলে মহিশালবাড়ি হাটের একটি দোকানের বারান্দায় থাকি। দোকানদার আমার কাছ থেকে কোন ভাড়া নেন না। প্রতিদিন তার বেচাবিক্রি হয় গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। প্রতিদিন তার নিজের খরচ হয় ২০০ টাকা করে। খরচ বাদে তার প্রতিদিন লাভ হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। যা দিয়ে চলে তার সংসার।
তিনি আরও বলেন, আমার ভ্যান গাড়িতে বাঁশের তৈরি যে মোড়গুলো দেখছেন তা নিজের বাড়িতে মেয়ে মানুষেরা সংসারের কাজ শেষ করে তৈরি করে। একজন প্রতিদিন দুটি করে মোড়া তৈরি করতে পারে। তাদের একটি মোড়া তৈরি করতে খরচ হয় বাঁশ, দড়ি সব মিলিয়ে ৬০ টাকা করে। এ মোড়া বিক্রি করি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা করে। আমার বাড়িভিটে ছাড়া কোনো জমি জায়গা নাই। এভাবেই ফেরি করে কোনো রকমে চালাই সংসার। তবে বড় ছেলেটা চা, বিস্কুট ও মাছ- মুরগীর খাবার ফিডের ব্যবসা করছে। সেও এখন সংসারে সহযোগিতা করছে। আব্দুর রহিমের শেষ স্বপ্ন এভাবে ফেরি করে সৎ উপার্জনের মধ্যে দিয়ে যেন বাঁকি জীবনটা শেষ করতে পারেন।









