করোনাভাইরাস মধ্যেই এবার শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। করোনাভাইরাস মূলত যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের সহজেই আক্রমণ করে। এজন্য এবার রোজায় বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদরা বলছেন, এবারের রমজান মাসে সবাইকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে হবে। এবছর গ্রীষ্মকালে রোজা হওয়ায় প্রায় ১৪ ঘণ্টা পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। তাই সুষম খাদ্য নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। করোনার মধ্যে রোজায় কী খেতে হবে এ বিষয়ে বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতালের নিউট্রিশনিস্ট নাজমুন্নাহার বেগম পলি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার পরামর্শগুলো হলো
১. কোভিড-১৯ প্রতিরোধের জন্য খাবার তালিকায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট (ভিটামিন এ, সি, ই) ও জিংকসমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে। ভিটামিন-সি ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এ জাতীয় খাবার হিসেবে আমলকী, লেবু, জাম্বুরা, পেয়ারা, টমেটো, কমলা, কাঁচামরিচ ইত্যাদি রাখা যায়। এছাড়া মৌসুমি ফল তরমুজ, পেঁপে, আনারস, স্ট্রবেরি, জলপাই এগুলোও তালিকায় রাখতে পারেন। বিটা ক্যারোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন গাজর, মিষ্টিআলু, বিট এবং জিংক ও প্রোটিনসমৃদ্ধ মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, বাদাম, ডাল, গমজাতীয় খাবার, ওটস, লাল চাল খেতে পারেন। ২. টকদই প্রোবায়োটিক যা শ্বাসযন্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণে কাজ করে থাকে। তাই ইফতার বা সেহরিতে সল্প পরিমাণ টকদই খাবেন। ৩. গ্রীষ্মকালীন রোজার কারণে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়ে পানিশূন্যতা রোধে বেশি পরিমাণে পানি এবং তরল খাবার খেতে হবে। ইফতারে কচি ডাবের পানি, লেবুর শরবত, বেলের শরবত, ইসুবগুলের ভুসি, কাঁচা আমের শরবত রাখলে পানিশূন্যতা রোধের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি পূরণ হবে। তবে শরবত অতিরিক্ত চিনিযুক্ত হবে না। ৪. অতিরিক্ত তেলেভাজা খাবার পরিহার করুন, না হলে অ্যাসিডিটি হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। ইফতারে চিঁড়া, টকদই ও কলা খেতে পারেন। ইফতারে মিশ্রফলের সালাদ খেতে পারেন। ৫. ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রাতের খাবারটাকে ইফতারে এবং দুপুরের সমপরিমাণ খাবার সেহরির সময়ে খেতে নিতে হবে। ৬. ইউরিক এসিড এবং কিডনিজনিত সমস্যা আছে যাদের তারা ডাল এবং বেসনের পরিবর্তে ইফতার তৈরিতে চালের গুঁড়া ও ময়দা ব্যবহার করতে পারেন। বেগুনি ও পিয়াজুর পরিবর্তে ডিম সিদ্ধ করে খেতে পারেন। ৭.সেহরিতে ভাত, সবজি, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ খাবেন। এর পাশাপাশি ২-৩টি খেজুর সারাদিনে আপনাকে শক্তি জোগাতে সহযোগীতা করবে। ৮.নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করবেন। দিনের বেলা না করে ইফতারের পরে ব্যায়াম করবেন। ৯.সব ধরনের মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করবেন অন্যথায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। দিনের বেলা সম্ভব হলে ১৫-২০ মিনিট রোদে বসুন।
আনন্দবাজার/তা.তা









