অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এমপি বলেছেন, বিদ্যমান রপ্তানি বাণিজ্যের ৬০ বিলিয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে বৃদ্ধি করে ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। এর জন্য আনুষঙ্গিক যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলোর জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অর্থনৈতিকবিষয়ক সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে অর্থনৈতিকবিষয়ক সংক্রান্ত একটি প্রাস্তব ছিল, রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ নির্ধারণ করা। কীভাবে রপ্তানি বাণিজ্য আমরা করবো, তার নীতিনির্ধারণ করা। আমরা ২০২১-২৪ সাল পর্যন্ত এর খসড়া নীতিনির্ধারণ করেছি, এটা অনুমোদনও দিয়েছি।
রপ্তানিনীতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত নীতিতে আগে অধ্যায় ছিল ৮টি। এখন তা ৯টি করা হয়েছে। অগ্রাধিকার খাতে সম্ভাবনাময় নতুন কিছু পণ্য এবং সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ কীভাবে সম্ভব, সেটি এখানে রয়েছে। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নত দেশে উত্তরণপরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মকৌশল প্রণয়নের বিস্তারিত রয়েছে।
তিনি বলেন, রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে টেকসই উন্নয়ন নীতিনির্ধারণে কৌশল প্রয়োজন। আইসিটি সার্ভিসেস এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতসহ সেবা খাতে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আমদানি নীতির আদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতের ক্ষেত্রসমূহের সামঞ্জস্য বিধান রাখাটাও জরুরি। এছাড়া বিনিয়োগ সহজকরণের নির্দেশনা ও পণ্য সেবা বহুমুখীকরণের সুপারিশ করা হয়েছে। মেড ইন বাংলাদেশ কনসেপ্টকে জোরদার করার প্রস্তাবও এসেছে।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের কিছু ডিফারেন্স (পার্থক্য) আছে, সেটি আমরা স্বীকার করি। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন জিনিসপত্রের দাম কমে যায়, আমাদের মূল্যস্ফীতিতে আমদানি মূল্যস্ফীতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যখন আমরা বাইরে থেকে মালামাল ক্রয় করি, রেটের কারণে সেই মালামালের দামটা বাড়ে।
তিনি বলেন, যেহেতু রপ্তানি বাড়ছে, আমদানিও বাড়ছে। আমদানির জন্য সেখানে ফিন্যান্সিং করা লাগে। তাই মার্কেট ওঠা-নামা করবেই। সেটা অনেক বেশি ওঠা-নামা দেখতে পারবো না। আমাদের এখানে রেট বেশি বাড়ার সম্ভবনা নেই।
এদিকে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) ৬২ কোটি ৭১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬৪ হাজার ৭৯৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি (এসপিসি পোল) কেনার দুইটি প্রস্তাবের অনুমতি দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন এ কথা জানান।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের জন্য একটি এবং ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের জন্য ১৩টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ক্রয় প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাতটি, বিদ্যুৎ বিভাগের তিনটি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুইটি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একটি প্রস্তাবনা ছিল। ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ১৩টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ১০ হাজার ৭৯৪ কোটি ৮৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৮ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে ৯ হাজার ৫৮৯ কোটি ৬৬ লাখ ২৬ হাজার ৭৭ টাকা এবং ভারত থেকে ঋণ ১ হাজার ২০৫ কোটি ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ২২১ টাকা।
সাংবাদিকদের অতিরিক্ত সচিব বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) কর্তৃক ১) চরকা এসপিসি পোলস লিমিটেড (২) দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এবং (৩) কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের কাছ থেকে ৩২ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি (এসপিসি পোল) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৩১ কোটি ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪৮ টাকা।
অপর এক প্রস্তাবে বাপবিবো কর্তৃক ১) চরকা এসপিসি পোলস লিমিটেড (২) কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এবং (৩) পোলস অ্যান্ড কংক্রিট লিমিটেডের কাছ যৌথ উদ্যোগে থেকে ৩২ হাজার ৩৯৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি (এসপিসি পোল) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৮৯ টাকা।
আনন্দবাজার/এম.আর









