ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের অভিযান
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কৃষি মার্কেটে শত শত চালের বস্তা রেখে পালিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বারবার অনুরোধের পরও তারা দোকানে হাজির হননি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কৃষি মার্কেটে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযানের সময় এমন ঘটনা ঘটে।
অভিযানের সময় দেখা গেছে, অনেক চালের দোকানে মূল্য তালিকায় অসঙ্গতি। নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে তারা চাল বিক্রি করছেন। পরে অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মার্কেটের তিনটি চালের দোকানে জরিমানা করেন।
এর মধ্যে আনোয়ার ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সময়ে মদিনা রাইস এজেন্সিকে ৫০ হাজার টাকা ও সাইকা রাইস এজেন্সিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তারা বলছেন, জরিমানা এড়াতেই ব্যবসায়ীরা এমনটা করেছেন। তাদের বার বার আসতে বলেও তারা আসেননি।
এর আগে গত ৩১ মে একই মার্কেটে অভিযান চালিয়েছিল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তখনও চাল রেখে পালিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। তখন দুই চালের দোকানকে চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, আমরা সেখানে গিয়েছি চালের দাম কেন বেড়েছে, তার খোঁজ নিতে। আমাদের যাওয়ার খবর পেয়ে অনেক ব্যবসায়ী দোকান থেকে পালিয়ে যান। তিনি বলেন, চাল যে দামে কেনে, সেখান থেকে দোকান পর্যন্ত আসতে প্রতি কেজিতে ব্যবসায়ীদের আরও দুই টাকা খরচ হয়। পরে এক টাকা (প্রতি কেজি) লাভে সেই চাল বিক্রি করেন তারা। যদিও মূল্য তালিকায় প্রতি কেজিতে ১০-১২ টাকা বেশি দেখা গেছে।
কিছুদিন ধরে দেশে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ভরা মৌসুমেই দাম বেড়েছে চালের। ঊর্ধমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে নিতেই সরকারের নির্দেশনায় বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কৃষি মার্কেটে অভিযানে যান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
আনন্দবাজার/শহক









