চলতি বছরের মার্চে অবকাশ যাপনে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে গিয়েছিল সাত তরুণ। সাতজনের মধ্যে চারজন ফিরে এলেও থেকে যান তিনজন। এই তিনজন গতকাল বুধবার সেন্ট মার্টিনে কাটিয়ে দিল ৫০তম দিনটি। তারা জানান, এই সময়টায় ভিন্ন এক সেন্ট মার্টিন দেখা পেয়েছেন তারা।
এই তিন পর্যটক হলেন রাজধানীর এনজামুল হক, আরশাদ হোসেন ও সালেহ রেজা। আরশাদ হোসেন পেশায় ব্যবসায়ী, এনজামুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করছেন এবং সালেহ রেজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তিনজনই একটি ভ্রমণ সংগঠনের সদস্য। সেখান থেকেই তাদের পরিচয় এবং বন্ধুত্ব।
তারা জানান, বন্ধুত্বের সূত্রেই গত ১৫ মার্চ সাতজন ঘুরতে গিয়েছিলেন সেন্ট মার্টিন দ্বীপে। ২০ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী ১৯ মার্চ শেষ জাহাজ দ্বীপ ছেড়ে আসে। সে জাহাজে অন্য পর্যটকদের সঙ্গে দলের চারজন ফিরে এলেও থেকে যান তাঁরা তিনজন।
এনজামুল হক বলেন, আমরা সে সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলাম। চিন্তা করে দেখলাম, ঢাকায় কোনো কাজ নেই, অফিসও বন্ধ থাকবে, করোনার প্রকোপে ইতালি বা স্পেনের মতো অবস্থা হয়, তাহলে তো বাসা থেকে বের হতে পারব না। শেষ পর্যন্ত হিসাব মিলিয়ে দেখলাম, দ্বীপে থেকে যাওয়াই ভালো। অন্তত নির্জন দ্বীপ উপভোগ করা যাবে।
তারা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের একটি রিসোর্টে উঠেছলেন। নির্দিষ্ট সময় পর টাকা ছাড়াই সে রিসোর্টের একটি কক্ষ দেওয়া হয়েছে তাদের।
সালেহ রেজা বলেন, আমাদের রুমটা সৈকতের পাশে। ঘুমাতে যাই ঢেউয়ের শব্দ শুনে আবার ঘুম থেকে জেগে উঠি ঢেউয়ের শব্দে। রান্নাও নিজেরা করি। প্রতিদিন বিকেল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সৈকতে বসে কাটিয়ে দিই। প্রতিদিন নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। মনে হচ্ছে এই দ্বীপের বাসিন্দা হয়ে গেছি।
ফিরে আসা প্রসঙ্গে এনজামুল হক বলেন, করোনা পরিস্থিতি কোন দিন স্বাভাবিক হবে আর কোন দিন ফেরা হবে জানি না। তবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে থেকে মনে হচ্ছে, জীবনের সোনালি দিন কাটাচ্ছি আমরা।
আনন্দবাজার/ টি এস পি








