প্রায় সাত বছর পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে। ২০১৪ সালের অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে।
এ ব্যাপারব বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সাথে পশ্চিমাদের চলমান উত্তেজনা প্রকট হচ্ছে। সেজন্য বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যটির সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই ফের অস্থিতিশীলতার মুখে পড়েছে জ্বালানি পণ্যের বাজার।
তথ্য অনুযায়ী, গতকাল আইসিই ফিউচারস ইউরোপে দিনের শুরুতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়ায়। যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু কার্যদিবসের মাঝামাঝিতে বাজারদর ৮৯ দশমিক ৯৬ ডলারে নেমে আসে। এদিন আগের কার্যদিবসের তুলনায় ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ বা ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৭৬ সেন্ট।
এদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল বাজার আদর্শটির দাম ১ ডলার ৭৫ সেন্ট বেড়ে বিক্রি হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার ৩৫ সেন্টে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের প্রধান ভূ-রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিশ্লেষক পল শেলডন জানান, বৈশ্বিক বাজারগুলো সরবরাহ বিঘ্ন ঘটার ভয়ে রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ সম্ভবত অব্যাহত থাকবে। কিন্তু কিছু বিষয়ে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
রিস্টাডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অব অ্যানালাইসিস ক্লদিও গালিম্বার্টি জানান, এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দামের গতিপথ বদলানোর মতো একমাত্র সংস্থা হচ্ছে ওপেক। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে বসছে জ্বালানি তেল রফতানিকারক ও তাদের সহযোগী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস। ওই বৈঠকে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইউক্রেন সীমান্তে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। যেকোনো সময় ইউক্রেন আক্রমণ করতে পারে মস্কো- এই আশঙ্কায় এরই মধ্যে কড়া নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। ফলে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আনন্দবাজার/টি এস পি









