সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই উপজেলায় বন্ধ হয়নি এনজিও’র কিস্তি আদায়। এতে করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্ম আয়ের মানুষেরা চরম বিপাকে পড়েছে। করোনা মহামারীর এ সময় সাধারণ নিম্ম আয়ের মানুষদের সংসার চালাতে অসহনয়ি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সময় এনজিওর কিস্তি যেন “মরার উপর খড়ার ঘা।”
ধামরাইয়ের হাজীপুর গ্রামবাসীদের অনেকেই জানান, করোনা ভাইরাসের আক্রমনে বাংলাদেশে যখন সবাই মানবিকতা দেখাচ্ছে, তখন এনজিও ও মাল্টিপারপাস কোম্পানীগুলো বাড়ি বাড়ি এসে কিস্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। এদের অত্যাচারে অনেকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এই গ্রামের অনেকেই এখন কষ্টে দিন চালাচ্ছেন বলে জানান নূরুল ইসলাম নামে এক শ্রমজীবি তিনি বলেন, এই মূহুর্তে আমরা জীবিকার জন্য দিশেহারা। আয়-রোজগারও কমে যাচ্ছে। এরপরও সংসার চালানোর শেষ সম্বলটুকু এদের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে।
দিনমজুর-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন স্থানে চলছে এনজিওর ঋণ আদায় কার্যক্রম। এতে এনজিওর ঋণ গ্রহণকারী দরিদ্র মানুষ এখন বিপাকে। তাদের দাবি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঋণ আদায় স্থগিত করার।
এদিকে, ছয় মাসের জন্য এনজিও ঋণের কিস্তি শিথিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। জুন পর্যন্ত ঋণগ্রহিতা কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সেটিকে খেলাপি বা বিরূপমানে শ্রেণিকরণ করা যাবে না।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে। সার্কুলারে বলা হয়, বর্তমানে করোনা ভাইরাসজনিত কারণে বিশ্ববাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দেশের সার্বিক অর্থনীতির এ নেতিবাচক প্রভাবের ফলে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহিতাদের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি বিধিমালা, ২০১০ এর বিধি ৪৪ অনুসরণে ১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ঋণের শ্রেণিমান যা ছিল, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ওই ঋণ তার চেয়ে বিরূপ মানে শ্রেণিকরণ করা যাবে না।
এর আগে গত কয়েকদিন ধরে সোস্যাল মিডিয়ায় এনজিও ও সমিতির কিস্তি শিথিল করার জন্য অনেকেই আলোচনা করে বিভিন্ন পোস্ট দেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটির নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অমলেন্দু মুখার্জ্জি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা আপাতত আগামী জুন পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধের বিষয়টি রিল্যাক্স করে সার্কুলার দিয়েছি। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রয়োজনে এ সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।
এমআরএর তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৫৮টি এনজিও সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। ৩ কোটির বেশি গ্রাহক এই ঋণ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এধরনের দির্দেশ জারি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সাভার, আশুলিয়া , ধামরাইয়ে এনজিওগুলোর পাশাপাশি অবৈধভাবে গজিয়ে উঠেছে অনেক মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠান। এরা সমবায় অধিদপ্তরের আইনকে উপেক্ষা করে চালিয়ে সুদ ও দাদন ব্যবসা। এদের অত্যাচারে অনেকেই এখন দিশেহারা।
আনন্দবাজার/এফআইবি








