পুঁজিবাজারে লেনদেন--
- ৬৫ ভাগ কোম্পানির দরে পতন
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মঙ্গলবার লেনদেন কমে সাতশ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছে। এদিন পুঁজিবাজারে শেয়ার ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি ছিল। বিক্রির চাপে এদিন ৬৫ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এদিন ডিএসইর সব ধরনের সূচক পতন হয়। সূচক পতনের একই অবস্থা অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। বিক্রির চাপে এদিন ৬৬ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এদিন লেনদেন পরিমাণ কমেছে।
রেগুলেটরদের নানান উন্নয়ন পরও পুঁজিবাজার পতন কবলে রয়েছে। সেই পতন বর্তমানে আরো বেড়েছে। পতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নীরবে কাদছে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিভিন্ন মহলের চেষ্টায় দীর্ঘদিন পর ঈদের আগের কয়েকদিন পুঁজিবাজার উত্থানে ছিল। সেই সময় লেনদেন, শেয়ার দরসহ সূচক চাঙ্গা ছিল। চাঙ্গায় শেয়ার লসে বিক্রয় করা থেকে বিরত ছিলেন অনেকেই। কিন্তু গত কয়েক কার্যদিবস তার উল্টো গতিতে পুঁজিবাজার। এসময় পতন হয় সব ধরনের সূচক। কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর। পতনে এদিন পুঁজিবাজারে শেয়ারের বিক্রয় চাপ ব্যাপক হারে বাড়ে।
পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন ৬৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৬৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং সিএসইর ৬৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। এদিন পুঁজিবাজারে ২৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ২৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং সিএসইর ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এই ধরনের কমা অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইতে এদিন পাট ও সেবা আবাসন খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন বস্ত্র, বিমা, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওযুধ রসায়ন, নন ব্যাংকিং আর্থিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানী শক্তি, বিবিধ, আইটি, সিমেন্ট, সিরামিক, পেপার এবং টেলিকম খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন ব্যাংক, ফান্ড, চামড় এবং ভ্রমন অবসর খাতের কোম্পানির শেয়ার দর কমা বাড়ায় ছন্দ ছিল। কমার একই চিত্র ছিল পুঁজিবাজার সিএসইতে। দুই স্টকের এ ধরনের শেয়ারের দর হ্রাসকে অস্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইতে গতকাল মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ৭৭৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৯টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৮৯টির, কমেছে ২৪৫টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৫টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৭ দশমিক ৪২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪০৩ দশমিক ৫০ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ৫২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৩৬৩ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪০৮ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে।
এদিনে ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকো ৪৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এদিন শাইনপুকুর সিরামিকস ৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সালভো কেমিক্যাল ২৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, ফু-ওয়াং সিরামিক ১৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, লার্ফাজ-হোল্ডসিম ১৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ১৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, এসিআই ফরমুলেশন ১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং ইউনিক হোটেল ১২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
অপরদিকে, চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৪৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৩টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৬৬টির, কমেছে ১৯৫টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩২টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১২১ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭৪৫ দশমিক ১৭ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৪ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৭৪ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৭২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৯১ দশমিক ৩১ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৫৯৫ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে, ১১ হাজার ২৪৮ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৮৬ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে।
সিএসইতে ইউনিয়ন ব্যাংক ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইউসিবি ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, শাইনপুকুর ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, ফু-ওয়াং সিরামিক ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৬৭ লাখ টাকা, রবি ৫৪ লাখ টাকা, এনবিআর কর্মাশিয়াল ব্যাংক ৪৯ লাখ টাকা এবং লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।









