- লুজারে ভালো শেয়ারের দাপট
- পিই রেশিও বেড়েছে দশমিক ৭১ ভাগ
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে ঝুঁকির মাত্রা আগের তুলনায় বেড়েছে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
ওই সপ্তাহে টপটেন গেইনার তালিকায় ৭০ শতাংশই ‘বি’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি ওই সপ্তাহে টপটেন লুজার তালিকায় ৯০ শতাংশই ছিল ‘এ’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ারের দাপট। যেখানে উত্থান বাজারে এর উল্টো চিত্র সবাই প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সেখানে এই ধরনের চিত্র, অনেকেই বাঁকা চোখে দেখছেন বলে জানান পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
পুঁজিবাজারের ‘এ’ ক্যাটগরির শেয়ার ‘বি’ ক্যাটগরির থেকে তুলনামূলক ভালো বিধায় নিয়ম অনুসারে, যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে তার ঊর্ধ্বে লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘এ’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ার। অপরদিকে যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নিচে থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘বি’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ার।
ডিএসইর সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহের শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করে ১৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ১৮ দশমিক ৪১ পয়েন্ট। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও বেড়েছে দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৭১ শতাংশ।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগের জন্য পিই রেশিও এক ঘরের সংখ্যা নিরাপদ। এই নিরাপদ সংখ্যা ১৫ পর্যন্ত ধরা যেতে পারে। তবে ১৫ সংখ্যার ঊর্ধ্বে চলে গেলে বিনিয়োগে ঝুঁকির মাত্রা বাড়তে থাকে। ডিএসইর পিই রেশিও বর্তমানে ১৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সেই হিসেবে ডিএসইতে বিনিয়োগে ঝুঁকির মাত্রা নিরাপদ অবস্থানে এখনো আসেনি। ডিএসইতে বিনিয়োগ মাত্রা কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সূত্রমতে, সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ১১ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতের ১৩ দশমিক ১৩ পয়েন্টে, বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের ১৩ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ১৪ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৫ দশমিক ২৭ পয়েন্টে, ওষুধ রসায়ন খাতের ১৭ দশমিক ৯০ পয়েন্টে, বীমা খাতের ২১ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে, সেবা আবাসন খাতের ২২ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২৭ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে, বস্ত্র খাতের ৩৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে, চামড়া খাতের ৪১ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে, পেপার খাতের ৫২ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ৫৯ দশমিক ২৯ পয়েন্টে, খাদ্য খাতের ৬৭ দশমিক ৬২ পয়েন্টে, সিরামিক খাতের ১১০ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ১০১ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ৩১০ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে এবং পাট খাতের নেগেটিভ ৩৬ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্টে পিই রেশিও অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৭৮টির বা ৭২ দশমিক ৩৯ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। সপ্তাহটিতে ‘বি’ ক্যাটাগরির সিভিও পেট্রোক্যামিকেল রিফাইনারি শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। ওই সপ্তাহের লেনদেনে সিভিও পেট্রোক্যামিকেলের শেয়ার দর বেড়েছে ২৯ দশমিক ৬১ টাকা। এ বৃদ্ধির মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন গেইনারে তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। ওই সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭৯টির বা ২০ দশমিক ৫৭ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে।
সপ্তাহটিতে ‘এন’ ক্যাটাগরির একমি পেস্টিসাইডস শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে কম লক্ষ্য করা গেছে। ওই সপ্তাহের লেনদেনে একমি পেস্টিসাইডসের শেয়ার দর কমেছে ৯ দশমিক ৪৯ টাকা। এ কমার মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। বাকি ৯০ শতাংশই ‘এ’ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে।
এছাড়া ওই সপ্তাহে টপটেন গেইনারের তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফাইন ফুডস (‘বি’ ক্যাটাগরি) ২৯ দশমিক ২৫ শতাংশ, প্রান (‘এন’ ক্যাটাগরি) ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, জিমিনি সি ফুড (‘এন’ ক্যাটাগরি) ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ইনফরমেশন সার্ভিসেস (‘বি’ ক্যাটাগরি) ২৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ফু-ওয়াং ফুড (‘বি’ ক্যাটাগরি) ২৫ দশমিক ১৮ শতাংশ, মেট্রো স্পিনিং (‘বি’ ক্যাটাগরি) ২৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, অ্যাপোলো ইস্পাত (‘বি’ক্যাটাগরি) ২২ দশমিক ৮৯ শতাংশ, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ (‘এন’ ক্যাটাগরি) ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং আনলিমা ইয়ার্ন ডায়িং (‘বি’ ক্যাটাগরি) ২১ দশমিক ৪৯ শতাংশ করে শেয়ার দর বেড়েছে।
পাশাপশি ওই সপ্তাহে টপটেন লুজারের ওঠে আসে নয়টিই ‘এ’ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ার। ওই তালিকায় উঠে আসা ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ, আমান ফিড ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ফরচুন সুজ ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৫ দমমিক ১৮ শতাংশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ওয়ান ব্যাংক ৪ দিশমিক ৬৯ শতাংশ করে শেয়ার দর কমেছে।
আনন্দবাজার/শহক









