বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর মুহূর্তেই বিশ্বব্যাপী বেড়েছে ফেস মাস্কের চাহিদা। করোনাভাইরাস ঠেকাতে এশিয়ার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফেস মাস্ক কেনার হিড়িক পরেছে। কোনো কোনো দেশে মাস্ক সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সংস্পর্শে এলে বা তার সাথে হাত মেলালেও করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে যে কেউ। কাজেই এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রথমেই মাস্ক ব্যবহার করা জরুরী।
তবে ফেস মাস্ক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কতটা কার্যকরী তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। আবার কি ধরনের মাস্ক কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তা নিয়েও সন্দিহান কেউ কেউ।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অনেকেই ফেস-মাস্ক ব্যবহার করছে। কিন্তু অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছে ভুল পদ্ধতিতে। আবার অনেকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে কত সময় পর্যন্ত তাও সঠিকভাবে জানে না।
ডিসপোজেবল মাস্ক, যেটাকে সার্জিক্যাল ফেস মাস্কও বলা হয়। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের আশপাশে থাকা চিকিৎসক থেকে শুরু করে হাসপাতালের কর্মীরাও এটা ব্যবহার করে থাকে। এটা চিকিৎসক এবং রোগী উভয়কেই সংক্রমণ থেকে বাঁচায়। তবে এটা বাতাসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা আটকাতে পারে না। এই মাস্কগুলো মাত্র ৩ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি পরা ঠিক না, এটি ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে উপযোগী নয়।
সার্জিক্যাল মাস্কের দুইটি অংশ থাকে। একটি অংশ হালকা নীল রঙের এবং আরেকটি অংশ সাদা রঙের। নীল অংশটি হচ্ছে ওয়াটারপ্রুফ আর সাদা অংশটি ফিল্টার, যেটা ভেদ করে জীবাণু ঢুকতে পারে না। আপনি যদি সুস্থ ব্যক্তি হয়ে থাকেন এবং বাইরের ধুলাবালি ও রোগ জীবাণুর আক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচাতে চান, তাহলে সাদা অংশটি বাইরে এবং নীল অংশটি ভিতরে দিকে দিয়ে পরিধান করুন। কেননা সাদা অংশ দিয়ে ফিল্টার করেই বাতাস ভেতরে ফুসফসে ঢুকবে। আর আপনি যদি ঠাণ্ডা, জ্বর, হাঁচি, কাশি বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত থাকেন, তখন নীল অংশটি বাইরে রেখে সাদা অংশটি ভেতরে ব্যবহার করুন। এতে আপনার মুখ থেকে ক্ষতিকর কিছু বাইরে যেতে বাঁধা পাবে এবং অন্য কেউ সহজে আক্রান্ত হবে না। সার্জিক্যাল মাস্ক কতবার ব্যবহার যোগ্য
অধিকাংশ মানুষই সাদা অংশটি মুখের ভেতরে রাখে এবং এক মাস্ক দিনের পর দিন ব্যবহার করে। সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো, তবে তা শুধু একবারই ব্যবহার করতে হয়। বাজারে এক লেয়ারের মাস্কও পাওয়া যায়, যা ধুলা-ময়লা থেকে আমাদের বাঁচাতে পারলেও রোগ প্রতিরোধে কোন সাহায্য করে না। কাজেই সেগুলো ব্যবহার করা ঠিক না। একটি মাস্ক কত সময় ব্যবহার করা যাবে।
মনে রাখবেন, একটি মাস্ক একবারের বেশি ব্যবহার করবেন না। নিয়ম অনুযায়ী একটি মাস্ক ২ ঘণ্টার বেশি পড়ে রাখা যায় না। ভাল মানের মাস্ক একটানা ৮ ঘন্টার বেশি পড়া উচিত না। কিন্তু আমাদের পক্ষে বার বার এই মাস্ক পরিবর্তন করা সম্ভব না। তাই সর্বোচ্চ এক দিন ব্যবহার করবেন এবং ব্যবহার শেষে যেখানে সেখানে না ফেলে রোগ জীবাণু যেন না ছড়ায় সেভাবে কাগজের প্যাকেটে মুড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিন।
আনন্দবাজার/তা.তা









