বগুড়ায় এবারো আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করেও উদ্বৃত্ত আলু থাকছে কৃষকের ঘরে ঘরে। পর্যাপ্ত হিমাগারের অভাবে এসব উদ্বৃত্ত আলু সংরক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার কৃষক। অনেকে যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে কম মূল্যে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, স্থানীয় চাহিদা পুরণ করেও বগুড়ায় এবার ৪ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন আলু বেশি উৎপাদন করেছে কৃষক। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে জেলায় মোট ৫৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়। যেখান থেকে আলু উৎপাদন হয়েছে ১১ লাখ ৭৭ হাজার টন। জেলায় আলুর চাহিদা ৬ লাখ ৯০ হাজার টন। চাহিদা পুরণ করেও উদ্বৃত্ত আলুর পরিমাণ ৪ লাখ ৮৭ হাজার টন আলু। এসব আলু নিয়ে অনেক কৃষক এখন বিপাকে। তবে কিছু আলু রপ্তানি হওয়ায় দাম নিয়ে আশার আলো দেখছেন অনেক কৃষক।
এখন পর্যন্ত জেলা থেকে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ২শ টন আলু রপ্তানি করেছেন রপ্তানিকারকরা। এর মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মেসার্স সাগর ট্রেডার্স একাই ১১ হাজার ২০০ টন আলু বিদেশে রপ্তানি করেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চল থেকে এবার কমপক্ষে ২৫ হাজার টন আলু বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই আলুর রপ্তানিমূল্য ৬২ দশমিক ৫ কোটি টাকা। বগুড়া অঞ্চলের আলুর গুণগত মান ভালো হওয়ায় চাহিদা বাড়ছে। এতে আলু রপ্তানির সম্ভাবনাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মে মাস পর্যন্ত আলু রপ্তানি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নানা জটিলতায় আলু রপ্তানিতে উৎসাহ হারাচ্ছে ব্যাবসায়ীরা।
মূলত, পর্যাপ্ত হিমাগারের অভাব, পরিবহন সুবিধা না থাকায় আলু সংরক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা। জেলায় ৩৭টি হিমাগারে ২ লাখ ৯৫ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব। এদিকে বিদেশে রপ্তানির পরও হিমাগার সঙ্কটের কারণে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৮শ’ টন আলু সংরক্ষন নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না কৃষকের।
এবার এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে কৃষকের ব্যয় হয়েছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় টাকা। আলু তোলার পর থেকে এ পর্যন্ত পাইকারী বাজারে পাকড়ি আলু বিক্রি হয় ১৩ থেকে ১৬ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে, হিমাগারগুলোতে এবার প্রতি বস্ত আলু সংরক্ষণের খরচ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছর ৫০ কেজির বস্তা প্রতি ১শ ৭৫ টাকা খরচ রাখা হলেও এবার প্রতি বস্তায় খরচ পড়ছে ২শ’ টাকা। হিমাগার সংকটের কারণেই দাম এবার বেড়েছে। সেজন্য বেশি উৎপাদনে বিপাকে পড়তে হয়েছে আলু চাষিদের।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার আলু চাষি মজনু মিয়া জানান, এবার আলুর ফলন ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে বাজারে চাহিদাও বেশি ছিল। ভেবেছিলাম, ভালো দাম পাব। তবে শেষ অবধি শহরে দাম বেশি হলেও স্থানীয় বাজারে দাম অনেক কম। আমরা তো আর শহরে নিয়ে বেশি দামে আলু বেচতে পারি না। অন্যদিকে আবার আলু রাখার কোনো জায়গাও পাচ্ছি না। হিমাগারেও দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
কৃষক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে মৌসুমে শুরু থেকে যদি আলুর রপ্তানী, হিমাগারগুলিতে সাশ্রয়ী মূল্যে আলু সংরক্ষণ এবং সরকারের কাছে উৎপাদনের সঠিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা যায় তবে বগুড়ার আলুতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন , অন্যদিকে কৃষকরা আলুর ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।
আনন্দবাজার/শহক









