পৃথিবীর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ একক স্বর্ণ উত্তোলন উৎস ছিল- দক্ষিণ আফ্রিকার উইটওয়াটারস্যান্ড নদীর খাড়ি। এপর্যন্ত উত্তোলিত স্বর্ণের ৩০ শতাংশ এখান থেকেই আহরণ করা হয়। সোনালী ধাতবের অন্যান্য বড় উৎসের মধ্যে রয়েছে; দক্ষিণ আফ্রিকার গভীরতম খনি- এমপনেং, অস্ট্রেলিয়ার সুপার পিট এবং নিউমন্ট বডিংটন, ইন্দোনেশিয়ার গ্রাসবার্গ, এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের কিছু খনি।
⇒ বিশ্বে খনি থেকে উত্তোলন করার মতো আর কতটুকু স্বর্ণ অবশিষ্ট আছে?ভারতে সোনার খনি
ভারতের উত্তরপ্রদেশের নকশাল অধ্যুষিত সোনভদ্র জেলায় দুটি সোনার খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। দুটি খনিতে প্রায় তিন হাজার ৩৫০ টন সোনা মজুদ আছে। যা দেশটিতে মজুদ থাকা সোনার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। ভারতে বর্তমানে সোনা মজুদ আছে প্রায় ৬২৬ টন। এর মধ্যে সোনাপাহাড়ি খনিতে আছে ২৭০০ টন ও হারদি খনিতে আছে প্রায় ৬৫০ টন সোনা।
কুমটোর সোনার খনি
কুমটোর সোনার খনি পৃথিবী বিখ্যাত। পেরুতে অবস্থিত ইয়ানোকচা সোনার খনির পরে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সোনার খনি। কুমটোর গোল্ড কোম্পানির পূর্ণ মালিকানাধীনের মাধ্যমে, কুমটোর কানাডার খনি কোম্পানি, সেন্টেরা গোল্ডের ১০০ শতাংশ মালিকানাধীন। এ খনিটি ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে এবং ৩১ মার্চ ২০১৫ সালের মধ্যে এক কোটি আউন্সেরও (৩১১০০০ কেজিা) বেশি সোনা উত্তোলন করে। কুমটোর সোনার খনি হচ্ছে মূলত কিরগিজস্তানের ইশিক-কুল অঞ্চলে রাজধানী বিশেকেকের থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এবং চীনের সীমান্তের কাছে লেক ইশিক-কুলের ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত একটি উন্মুক্ত সোনার খননকারী কূপ।
ইরানে সোনার খনি
ইরানে ছোট-বড় অনেক খনি আছে যেসব খনিতে মূল্যবান সোনার মতো অনেক ধাতু রয়েছে। সোনা উত্তোলন করার জন্য সোনার খনির ওয়ার্ল্ড স্টান্ডার্ড হলো খনিতে মজুদ সোনার পরিমাণ কমপক্ষে একশ টন হতে হবে। বৈশ্বিক এ মান অনুযায়ী ইরানে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০টি সোনার খনি শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ প্রদেশে ২০১৫ সেয়ালে আবিষ্কৃত হয়েছে নতুন সোনার খনি। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী নতুন এ খনিতে ৮৮৯ হাজার টন সোনার পাথর রয়েছে। খনিটি আবিষ্কারের জন্য ইরান স্থানীয় মুদ্রায় ১৪০ কোটি রিয়াল খরচ করেছে।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সোনার ভান্ডার
গ্রাসবার্গ খনি ভুবন বিখ্যাত। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সোনার খনি গ্রাসবার্গ। এ খনির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ফ্রিপোর্ট। এটি একই সঙ্গে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তামার খনিও। গ্রাসবার্গ খনিটি ওসেনিয়া মহাদেশের পাপুয়া নিউগিনিতে অবস্থিত। এখানে কর্মরত আছেন ১৯ হাজার ৫০০ কর্মী। গ্রাসবার্গ খনিতে এখন পর্যন্ত ১.৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন সোনা মজুদ আছে।
পেরুতে কালো পুকুর খনি
পেরুর ভাষায় ওয়ান শব্দের অর্থ কালো, আর কোচা শব্দের অর্থ পুকুর। পেরুর আনদেস পর্বতমালায় অবস্থিত ওয়ানকোচা খনি ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম সোনার খনি। এটি ১৯৯৩ সালে আবিষ্কৃত হয়। এর তিনটি সক্রিয় খনি আছে। এ খনি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৬ মিলিয়ন আউন্স সোনা উৎপন্ন হয়েছে। এ খনি পরিচালনা কোম্পানির নাম নিউমন্ট মাইনিং।
যেখানে মিলিয়ন মিলিয়ন সোনা
গোল্ডস্ট্রাইক খনিটি আমেরিকার নর্থওয়েস্টার্ন অঞ্চলের নিভাদা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। খনিটি ব্যারিক গোল্ড কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত। সোনার ভা-ারখ্যাত কোম্পানিটি ১৯৮৭ সালে চালু হয়। গোল্ডস্ট্রাইক সোনার খনি থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ৮.৫ মিলিয়ন সোনা উত্তোলন করা হয়।
এখনও কিছু খনি আবিষ্কার করা হচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন বড় মজুদের সন্ধান পাওয়া দিন দিন আরও বিরল ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, সিংহভাগ স্বর্ণের যোগান আসছে দশকের পর দশক ধরে ব্যবহৃত পুরোনো খনি থেকেই।
আনন্দবাজার/শহক








