উপকূলীয় জেলা না হওয়া সত্ত্বেও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডব থেকে রেহাই পায়নি ঝিনাইদহ। আম্পানের আঘাতে ঝিনাইদহে ৮৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নানাভাবে সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ঝিনাইদহে প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কৃষকের দেড় হাজার হেক্টর কলা, ১ হাজার ২৫ হেক্টর শাকসবজি, ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর মুগ ডাল, ২ হাজার ২০ হেক্টরের তিল, ৭৫০ হেক্টর মরিচ, ১০০ হেক্টর বোরো ধান, ১ হাজার ৫০০ হেক্টর পান বরজ, ২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর আম বাগান ও ৪১৮ হেক্টর লিচু বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টাকার অংকে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ৮৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে এমন ক্ষতির মুখে পড়ে অনেক কৃষক এখন প্রায় পথে বসার উপক্রম। সরকারি সহযোগিতা না পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, উপকূলীয় জেলা না হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ঝিনাইদহে তীব্রভাবে আঘাত হানতে পারে, এমন আশঙ্কা আমাদের মনে ছিল না। তাই ফসল নিয়ে খুব একটা চিন্তিত ছিলাম না। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় চলে যাওয়ার পর মাঠে গিয়ে দেখা যায় সব তছনছ হয়ে গেছে। কারো কলা, কারো পান, আর কারো ধান নষ্ট হয়েছে। করোনার মধ্যে ফসলই ছিল আমাদের একমাত্র অবলম্বন। এখন আমাদের পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। পরবর্তী ফসল তোলার আগ পর্যন্ত ধারদেনা করে চলতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে। পান, কলা, আম, লিচুসহ অন্যান্য ফসল যা অবশিষ্ট রয়েছে তা সংরক্ষণ ও বিপণণের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া মাঠে মাঠে গিয়ে কৃষকদের সহযোগিতার চেষ্টা চলছে।
আনন্দবাজার/টি এস পি









