- কমলো ১৭৭৭৪ কোটি টাকা
- রূপপুরেই ৩৫৯০ কোটি টাকা
চলতি অর্থবছরের শুরুতে নেয়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কাটছাঁট করেছে সরকার। মূল এডিপি থেকে প্রায় ৮ শতাংশ কমিয়ে ২ লাখ ৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। এক হাজার ৭৫৪ টি প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এছাড়া স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ৯ হাজার ৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা সংশোধিত এডিপিও অনুমোদিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার পরিকল্পনা কমিশনের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে এনইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনইসি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছিল। সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ কমেছে ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। এটাই চূড়ান্ত উন্নয়ন বাজেট। এর আগে আমরা শঙ্কায় ছিলাম। সব কিছু ছাপিয়ে শঙ্কা কাটিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মোট বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ৭০ হাজার ২৫০ কোটি এবং দেশীয় অর্থায়ন ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। মূল এডিডি হতে সংশোধিত এডিপি অভ্যন্তরীণ উৎসে ৯ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বৈদেশিক উৎসে ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ সার্বমোট ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা হ্রাস পেয়েছে।
সংশোধিত এডিপিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে তিন হাজার ৫৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ কমছে। এছাড়া চলমান উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ৫৬৭ কোটি টাকা। তবে প্রায় দ্বিগুণ ২ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ছে পদ্মা সেতুর রেল লিংক প্রকল্পে।
খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ
সংশোধিত এডিপিতে ১০টি খাতে ১ লাখ ৯৩ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা বা ৯৩.০৮% অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রথম অবস্থানে রয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা বা ২৬.৯০%। বরাদ্দের দিক দিয়ে ২য় বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাত। এখানে প্রায় ৩৯ হাজার ২১৪ কোটি টাকা বা ১৮.৮৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধাবলী খাত, বরাদ্দ প্রায় ২৩ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা বা ১১.৩৭ শতাংশ।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা শিক্ষায় প্রায় ২০ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা বা ১০.০৩ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে প্রায় ১৫ হাজার ৫২০ কোটি। এরপর যথাক্রমে রয়েছে- স্বাস্থ্যখাত, প্রায় ১৩ হাজার ৭৯৭ কোটি। পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ খাতে প্রায় ৯ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। কৃষিতে প্রায় ৭ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা। শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবাখাতে প্রায় ৪ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষাখাতে প্রায় ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
মন্ত্রণালয়/বিভাগ ভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ
স্থানীয় সরকার বিভাগসর্বোচ্চ প্রায় ৩৪ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ পেয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগপ্রায় ২২ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা পেয়ে রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। এরপরে যথাক্রমে বরাদ্দ পেয়েছে- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, প্রায় ১৫ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। রেলপথ মন্ত্রণালয় পেয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগপেয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা।
এছাড়া প্রায় ৯ হাজার ২০৭ কোটি টাকা পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগপেয়েছে প্রায় ৮ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়: পেয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। সবশেষে সেতু বিভাগ বরাদ্দ পেয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।
সভায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









