আমের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত নওগাঁর সাপাহার। এ উপজেলায় বিভিন্ন প্রজাতির আম উৎপাদনে অন্যান্য উপজেলাকে ছাড়িয়ে গেছে। যার ফলে সবচেয়ে সেরা আম উৎপাদন করতে কোনো ঘাটতি নেই কৃষকদের মাঝে। এরই ধারাবাহিকতায় আমগুলো দাগ ও পোকামুক্ত রাখতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন এলাকার আমচাষিরা। দীর্ঘসময় ধরে সংরক্ষণসহ রোগবালাইমুক্ত আম উৎপাদনে ফ্রুটব্যাগ কার্যকরি ভূমিকা রাখে। যারকারনে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অধিক লাভের আশা করছেন স্থানীয় আমচাষিরা।
আমচাষরা জানান, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি অনেকটা কীটনাশক সাশ্রয়ী। এছাড়াও পোকামাকড় ও বিরূপ আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমকে রক্ষা করতে এ পদ্ধতি খুবই কার্যকর। ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি অবলম্বন করে আম দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। এমনকি অসময়ে আশ্বিনা জাতীয় আম ফ্রুট ব্যাগিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণ করে মৌসুমের শেষেও আম বাজারজাত করা যায়। এ পদ্ধতি আম সংরক্ষণ করার একটি উত্তম পন্থা। যা আমের গুণগত মান ও আমের রং তাজা রাখতে খুবই কার্যকর।
এ উপজেলায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি চলছে বেশ কিছু বছর যাবৎ। প্রাথমিক অবস্থায় হাতে গোনা কয়েকজন আমচাষি এ পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। তবে, সময়ের পরিক্রমায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে এলাকার বেশিরভাগ চাষি এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। যাতে করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন এলাকার আমচাষিরা। ফ্রুট ব্যাগের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা আমের চাহিদাও বাজারে ব্যাপারী ও ভোক্তাদের কাছে অনেক বেশি। কারণ ফ্রুট ব্যাগিংয়ের মাধ্যমে আম সংরক্ষণ করা হলে সেই আম থাকে কীটনাশকমুক্ত। পোকামাকড়, বিরূপ আবহাওয়া ও বাইরের ক্ষতিকর কোনো প্রভাব এ ব্যাগের মধ্যে ঢুকতে পারে না। যার ফলে তরতাজা থাকে আম।
উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আম চাষি মাহফিজুর রহমান বলেন, চলতি বছরে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আমের চাহিদা বেশ লক্ষ্য করা গেছে। আমি আমার বেশ কিছু জাতের আম সংরক্ষণ করার জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করছি। এতে আম পোকামাকড় থেকে রক্ষা পায়।
সম্প্রতি কয়েকদিন আগে কৃষকদের ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে সাপাহার উপজেলার সোহেল রানা ও সাখাওয়াত হাবীব নামে দু’জন সফল কৃষি উদ্যোক্তাকে ৮ হাজার ফ্রুট ব্যাগ উপহার দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, চলতি বছরে এ উপজেলায় প্রায় ১০হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। প্রতিবছর এ অঞ্চলে আমের চাষাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে প্রতি বছরে এই উপজেলায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ ফ্রুট ব্যাগ বিক্রি হয়। ফ্রুট ব্যাগ মূলত: মাছি পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ থেকে আমকে রক্ষা করে। এছাড়া আমের পচন রোধকল্পে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি খুব ভালো কাজ করে। যার ফলে কৃষকেরা বেশি দামে আম বিক্রয় করতে পারে। আশ্বিনা, আম্রপালি ও বারি-৪ জাতের আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা যায়।
আনন্দবাজার/শহক









