বিরল প্রজাতির ড্রাগন প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে স্লোভেনিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পোস্তজনা গুহায়। তবে এগুলো নিতান্তই শিশু ড্রাগন। ২০১৬ সালে এই শিশু ড্রাগনগুলোর ডিমের সন্ধান পায় দেশটির অন্যতম স্লোভেনিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পোস্তজনা গুহায়।
এই পোস্তজনা গুহাতেই একটি ল্যাবরেটরি বানিয়ে সেখানে পর্যবেক্ষণ করা হবে শিশু ড্রাগনগুলোর। তারপর পর্যটকদের প্রদর্শনের জন্য সাজিয়ে রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে ইউরোপের এই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের তরফে।
সূত্রের খবর, বিরল এই ড্রাগনগুলির বিচরণ ক্ষেত্র মূলত গুহা। এদের বলা হয়, প্রোটিয়াস বা ওল্মস। এই ড্রাগনের চামড়ার রং হালকা গোলাপী। তাদের দৃষ্টিশক্তি নেই। লম্বা শরীরে আছে চারটি পা। গুহার গভীরে পানির মঝে মূলত চরে বেড়ায় এই ধরনের ড্রাগনেরা।
ইউরোপের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গুহা অর্থাৎ পোস্তজনা গুহা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সবসময়ই খোলা থাকে। সেখানকার কর্মীরা খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, এই ড্রাগন শিশুগুলোর জন্ম ২০১৬ সালে। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ওই গুহার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মার্জাঁ বাতাগেলজ জানান, ডিমগুলো যখন প্রথমে আমাদের নজরে আসে, তখনই খুব উত্তেজিত হই। তবে পরবর্তীতে মাথায় হাজারো চিন্তা মাথায় আসে। কী ভাবে এগুলো বাঁচানো যায়, কী ভাবে বাচ্চাগুলোকে খাওয়াব, আর কী ভাবেই বা সংক্রমণ থেকে ওদের রক্ষা করা সম্ভব?
মার্জাঁ আরো বলেন, বিজ্ঞান বলছে, এই ধরনের প্রাণীর টিকে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ০.৫ শতাংশ। কিন্তু আমরা ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২১টি ড্রাগন বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি। একইসাথে তিনি জানালেন যে, ২০১৬ সালে মোট ৬৪টি ডিমের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।
গুহার ভিতরে ড্রাগনের এই বাচ্চাগুলো ১৪ সেন্টিমিটার বা ৫ ইঞ্চি লম্বা হয়। বড় হয়ে গেলে এরা ৩০ সেন্টিমিটার বা ১২ ইঞ্চি লম্বা হতে পারে। এই ধরনের ওল্মস একবার টিকে গেলে কমপক্ষে ৮ বছর কোন খাবার ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন।
আনন্দবাজার/এফআইবি








