বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আরও এগিয়ে যাবে নিঃসন্দেহে। বিশেষ করে যে শিল্পায়নের ধারা তৈরি হয়েছে। শিল্প যেভাবে বাড়ছে, এর সঙ্গে বাড়ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা। অথচ সে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ দেশে নেই। গ্যাসের সংকট চলছে দীর্ঘদিন। ক্রমেই এ সংকট তীব্র হচ্ছে। এই সংকট পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক আনন্দবাজার প্রধান শিরোনাম করেছে ‘সহসা কাটছে না সংকট’। এমন দূরাশার সংবাদে বিচলিত না করে পারে না। একই খবর অনুযায়ী বিশ্বে বাংলাদেশ এখন বৃহৎ অর্থনীতির ৪২তম দেশ। ২০৩৬ সালে ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের এ অবস্থান হবে ২৪তম। দেশের শিল্পে এখন গ্যাসের চাহিদা ৪৫০ ঘনফুট। সরবরাহ ৩০১ ঘনফুট। এরমধ্যে ১০০ ঘনফুট এলএনজি সরকারের আমদানি করা।
এ অবস্থায় গ্যাস সংকটের তীব্র চাপে পরছে শিল্পখাত। নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কোনো উদ্যোগ নেই। নেই যেসব গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে সেগুলোর উন্নয়ন। খবর অনুযায়ী গত দুই দশকে এর কোনো উন্নতি হয়নি। যার ফলে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বলা যায় এলএনজি আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ছে। স্পটমার্কেট থেকে এলএনজি কেনার পথও রুদ্ধ হয়ে আসছে। বর্তমানে ইউক্রেন সংকট বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গ্যাস সংকটে এই ব্যাপারটি আরও জটিল হবে। এ অবস্থায় দেশের শিল্পখাতে সংকট আরও বাড়বে। যা দেশের অর্থনীতির চাঙা অবস্থানকে আরও দুর্বল করবে।
বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন, নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য গ্যাস বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের তৎপর হতে হবে। দেশের অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী রাখতে হলে এর বিকল্প নেই। শিল্পখাতকে বাঁচিয়ে রাখতে অতি দ্রুত এবিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী মহলকেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিল্পখাতের পাশাপাশি এলএনজির বাড়তি দাম সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে। এদিকেও সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে নজর দিতে হবে। তা না হলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরা কঠিন হয়ে যাবে। এমনিতেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
এ অবস্থায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে এবিষয়টি নজরে আনা জরুরি। সংশ্লিষ্ট মহল এব্যাপারে কাল বিলম্ব না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা করি। দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে শিল্পের বিকল্প নেই। একথা উপলব্ধি করতে হবে। দেশের মেগা প্রকল্পগুলো শেষ করতেও শিল্পখাত থেকে আয় প্রয়োজন। দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থা শক্ত থাকা প্রয়োজন। সে বিষয়টিও ভাবতে হবে। আর সে কারণে দেশের শিল্পখাতে গ্যাস সংকটের এই অশনি সংকেত কাটিয়ে উঠতে সময় থাকতেই পদক্ষেপ নিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সংকটের সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। এরজন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনা করতে হবে। গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গড়িমসি করবার সুযোগ নেই। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করতে এটাই যথেষ্ট। গ্যাস সংকটের ফলে শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করবে। রাজস্ব আয়ে ধরাশায়ী হবে। প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না। অর্থনীতি হবে পরনির্ভরশীল। দেশ যতটা এগিয়েছে এই অবস্থায় কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলে আরও পিছিয়ে পড়বে। ফলে সরকারের সর্বোচ্চ মহলে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধায় পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাহলেই এই চরম পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। নচেৎ নয়।









