- বন্ধ নৌ পথে পণ্য পরিবহন
- কচ্ছপগতির নির্মাণ কাজে ভোগান্তি
- গার্ডার ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় ৪ কোটি
বরিশালের উজিরপুরে ধামুরা খালের ওপর প্রায় পৌণে চার কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজে কচ্ছপগতির কারণে প্রায় তিন বছরেও শেষ হয়নি। এতে ঐতিহ্যবাহী ধামুরা বন্দরের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
জানা যায়, ২০১৬ সালে উপজেলার ধামুরা খালের আয়রন ব্রিজটি ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে খালের মধ্যে ভেঙ্গে পড়ে। এতে ওই বছরই ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এলজিইডির আইবিআরবি প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ৭৩ লাখ তিন হাজার দুইশ’ ৬৫ টাকা ব্যয়ে ধামুরা খালের ওপর ৪৪ মিটার গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিলে বরিশাল নগরীর মেসার্স আমির ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। কার্যাদেশের এক বছরের মধ্যে (২০২০ সালের ১৭ এপ্রিল) ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি নির্মাণের শুরু থেকেই ঠিকাদার আমির হোসেন উদাসিনভাবে ধীরগতিতে নামেমাত্র শ্রমিক দিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্রিজের গার্ডার নির্মাণের পর দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখা হয়। ব্রিজের অধিকাংশ কাজই বর্তমানে অসমাপ্ত রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কবে নাগাদ কাজ শেষ করতে পারবে তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেননা। স্থানীয় শোলক ইউপি চেয়ারম্যান ও ধামুরা বন্দর ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আব্দুল হালিম জানান, নৌ-পথে পণ্য পরিবহনের জন্য ধামুরা খালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালটি দিয়ে শরিয়তপুর, মাদারীপুর, বরিশাল ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন বন্দরের ব্যবসায়ীরা ট্রলারে পণ্য পরিবহন করতো। এছাড়াও উন্নয়ন কাজের জন্য বালুবাহী জাহাজগুলো এ খাল দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় অতিপ্রয়োজনীয় এ খালে নৌ-চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন ধামুরা বন্দর বাজারের ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় জনসাধারণ। তারা দ্রুত জনগুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজটি নির্মাণ কাজ সমাপ্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ঠিকাদার আমির হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধীকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আ. মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঠিকাদারের গাফিলতি এবং উদাসিনতার কারনে অতিপ্রয়োজনীয় এ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজের ধীর গতির কারনে খোসারত দিচ্ছেন এলাকাবাসী। দ্রুত এর নির্মাণ কাজ শেষ করে জনভোগান্তি দূর করার দাবি জানান তিনি।
বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ব্রিজটির দুইবার ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। তারপরেও ঠিকাদার কাজে গাফিলতি করলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









