- পানিতে ছড়িয়েছে রাসায়নিক, পড়েছে সাগরেও
প্রাকৃতিক রূপ বৈচিত্রে সমৃদ্ধ সীতাকুণ্ডের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের মোহনা। উপকূলীয় দুই লাখ বাসিন্দার নিরাপত্তায় সবুজ বেষ্টনী হয়ে আছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। প্রায় ১০ হাজার একর বনভূমির মধ্যে ছয় হাজার একরই সংরক্ষিত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বেড়িবাঁধ থেকে কয়েক কিলোমিটার উপকূল পর্যন্ত লাগানো বনাঞ্চলের সিংহভাগই বিলীন হয়ে গেছে নির্বিচার গাছ কাটার কারণে। অন্যদিকে, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ভূমিসহ প্রতিনিয়তই হেলে পড়ছে গাছপালা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ হঠাৎ প্রবল শক্তিতে ধেয়ে আসা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকাতে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে উপকূলীয় বনাঞ্চল ও ম্যানগ্রোভ বন। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস কিংবা বড় বড় দুর্যোগ থেকে উপকূলকে বাঁচিয়ে ক্ষেত-খামার, ফসলসহ প্রান্তিক অর্থনীতি রক্ষা করতে হবে। তবে সীতাকুণ্ডের বর্তমান পরিস্থিতি খুবই নাজুক। আর এমন সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যে কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণ আরও বেশি নাজুক অবস্থায় ফেলবে উপকূলীয় এই অঞ্চলকে।
স্থানীয়রা বলছেন, গত শনিবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে কেমিক্যাল কনটেইনার ডিপোতে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে তাতে বিষাক্ত ধোঁয়া আর আগুনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশের পরিবেশে। বিশেষ করে, বিস্ফোরণের পর পানিতে কেমিক্যাল মিশে গিয়ে তা ছড়িয়ে পড়েছে। সেই পানি আবার গিয়ে সরাসরি পড়েছে বঙ্গোপসাগরে।
তবে ঘটনার পর পরই বিষয়টা নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের। বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত পানি যেন বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন। পরে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা এড়াতে কাজে নেমে পড়ে সেনাবাহিনী। কেমিক্যাল যুক্ত পানি যেন সাগরে মিশতে না পারে সে ব্যাপারে কাজ শুরু হয়।
ডিপো কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পরে জানানো হয়, কনটেইনার ডিপোটে বিপুল পরিমাণ হাইড্রোজেন পারক্সাইড মজুত ছিল। যা আগুনকে আরও তীব্র করে তোলে। বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের এলাকা। এতে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে উদ্ধারকর্মীরা। সময় যতই গড়াতে থাকে ততই বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে থাকে আশাপাশের দূরবর্তী এলাকায়। আশেপাশের গ্রামবাসীদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চোখ জ্বালাপোড়া করতে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থ জুমের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিস্ফোরণস্থলের অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পরোক্ষ প্রভাব দেখা গেছে। তাছাড়া আগুনের শিখা, ধোঁয়া ও উত্তপ্ত বাষ্প প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় প্রভাব ফেলে।
আনন্দবাজার/শহক









