দেশের দুই পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানির (বেক্সিমকো) শেয়ার কেনাবেচায় গতকাল বুধবার কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। এদিনে ১৩৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচার মধ্যেমে প্রতিষ্ঠানটি লেনদেন শীর্ষে ওঠে এসেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেক্সিমকো একাই লেনদেন করেছে ১৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার। যেখানে ডিএসইর ৩৭৭টি প্রতিষ্ঠান একত্রে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার।
এদিন চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেক্সিমকো একাই লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার। যেখানে সিএসইতে ৩০৮টি প্রতিষ্ঠান একত্রে লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ওঠে আসা বেক্সিমকো একাই এদিনে ১৩৭ কোটি ৩৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। বুধবার লেনদেন শেষে শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ১৫০ দশমিক ৮০ টাকা।
আগেরদিন মঙ্গলবার শেয়ার প্রতি দর ছিল ১৪৫ দশমিক ৩০ টাকা। একদিনের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৫ দশমিক ৫০ টাকা বা ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এদিন কোম্পানিটির ৯২ লাখ ১৫ হাজার ৩২৪টি শেয়ার ৭ হাজার ৯১৬ বার হাতবদল হয়। কোম্পানিটি পরিশোধিত মূলধন ৮৭৬ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার। শেয়ার সংখ্যা ৮৭ কোটি ৬৩ লাখ ১৮ হাজার ৮৭৯টি। অপরদিক সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ওঠে আসা বেক্সিমকো একাই এদিনে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
বুধবার লেনদেন শেষে শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ১৫১ দশমিক ২০ টাকা। আগেরদিন মঙ্গলবার শেয়ার প্রতি দর ছিল ১৪৫ দশমিক ৭০ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৫ দশমিক ৫০ টাকা বা ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এদিন কোম্পানিটির ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৬২টি শেয়ার ৫৯৪ বার হাতবদল হয়েছে।
ডিএসইতে দ্বিতীয় স্থানে ওঠে আসা ফরচুন সুজের ৫০ কোটি ২৬ লাখ ১৬ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেন শেষে শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ১৩৯ দশমিক ৬০ টাকা। আগেরদিন মঙ্গলবার শেয়ার প্রতি দর ছিল ৩৬ দশমিক ৫০ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১০ টাকা বা ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে ওঠে আসা ওরিয়ন ফার্মার ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ৩২ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। বুধবার লেনদেন শেষে শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ১১০ দশমিক ৩০ টাকা।
আগেরদিন মঙ্গলবার শেয়ার প্রতি দর ছিল ১০৯ দশমিক ১০ টাকা। চতুর্থ স্থানে ওঠে আসা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ৪৪ কোটি ৬৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। গত বুধবার লেনদেন শেষে শেয়ার প্রতি দর দাঁড়িয়েছে ১৩৩ দশমিক ১০ টাকা। আগেরদিন মঙ্গলবার শেয়ার প্রতি দর ছিল ১৩১ দশমিক ১০ টাকা।
এরপর লেনদেনর শীর্ষ অবস্থানে সাইফ পাওয়ারটেক ৩৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ৩২ কোটি ২৮ লাখ টাকা, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩১ কোটি ২ লাখ টাকা, কুইন সাউথ ১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, ফার্মা এইড ১৯ কোটি ৬৪ লাখ এবং রহিমা ফুড ১৮ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
অপরদিকে বুধবার সিএসইতে লেনদেন শীর্ষ অবস্থানে সাইফ পাওয়ারটেক ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, বিএসআরএম স্টিল ৭৮ লাখ টাকা, আইএফআইসি ব্যাংক ৭৮ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৫৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ৫৬ লাখ টাকা এবং বিডি থাই ফুড ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
এদিন ডিএসইর সব ধরনের সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। অপরদিক সিএসইর প্রধান সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন দুই স্টকের লেনদেন পরিমাণ কমেছে। এদিন কমেছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর।
দুই স্টকের এদিন ৪৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৪২ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সিএসইর ৪৭ দশমিকশূন্য ৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। এদিন উভয় স্টকে ৩৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৩৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং সিএসইর ৩৮ দশমিক ৩১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের বাড়া-কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিন ডিএসইতে পাট এবং চামড়া খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এছাড়া বিবিধ, পেপার, সিরামিক, ওযুধ রসায়ন, সিমেন্ট এবং আইটি খাতের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদের মধ্যে বিবিধ খাতের ৭১ শতাংশ, পেপার খাতের ৬৭ শতাংশ, সিরামিক খাতের ৬০ শতাংশ, ওযুধ রসায়ন খাতের ৫৯ শতাংশ, সিমেন্ট খাতের ৫৭ শতাংশ এবং আইটি খাতের ৫৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর উত্থান হয়েছে।
এদিন বিমা, ভ্রমন অবসর, ব্যাংক এবং খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের অধিকাংশ খাতের কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদের মধ্যে বিমা ৭৯ শতাংশ, ভ্রমন অবসর খাতের ৭৫ শতাংশ, ব্যাংক খাতের ৬৪ শতাংশ এবং খাদ্য আনুষঙ্গিক ৫৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিরগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের হ্রাস-বৃদ্ধি স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৭টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৩৯টির, কমেছে ১৬২টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৭৬টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৩ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৬ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ৭ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৮৯ দশমিক ২৫ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক দশমিক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১ হাজার ৫২০ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্টে।
সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৩০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ১৪৫টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৫টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩১ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬৩৪ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্টে।
সিএসই-৫০ সূচক ৫ দশমিক ১৪ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ১৬ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫২৩ দশমিক ৬০ পয়েন্টে, ১২ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২৯১ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৫ দশমিক ২৮ পয়েন্টে।
আনন্দবাজার/শহক









