শর্তের বেড়াজালে আটকে পরেছে ব্যাংক ঋণের এক অঙ্কের সুদ। দেড় বছর আগে ঘোষণা করা হয়েছিল আমানতের সুদ ৬ শতাংশ এবং ঋণের সুদ ৯ শতাংশ। এর পরিবর্তে ডজন খানেক সুবিধা নিয়েছিল ব্যাংকাররা। কিন্তু এই ৬/৯ মুখ দেখলনা বাস্তবায়নের। এ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অর্থাৎ প্রজ্ঞাপন চেয়েছেন তারা।
গত মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ নিশ্চয়তা চেয়েছেন ব্যাংকাররা। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির। এ সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) নতুন চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী আলী রেজা ইফতেখারসহ প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের এমডিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে সিঙ্গেল ডিজিটের বাইরে রাখার সুপারিশ করেছিলেন এমডিরা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক সমর্থন করে না তাদের সেই সুপারিশ। কেননা দেশের উন্নয়নে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অবদানও কোনোভাবে ছোট করা যাবেনা। তাই এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে। অর্থাৎ জামানতবিহীন ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ছাড়া আর সব ঋণেই এক অঙ্কের সুদহার কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
কতদিনে এ ছয়-নয় কার্যকর করা হবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ১লা এপ্রিল থেকেই এ সুদহার কার্যকর করা হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্কটের বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম জানান, বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই স্পরশকাতর।
বাজার অর্থনীতিতে ঋণ বা আমানতের সুদহার জোর করে চাপিয়ে দিতে পারে না বাংলাদেশ ব্যাংক। সুদহার চাহিদা ও জোগানোর ভিত্তিতেই আপন গতিতেই চলে। এ কারণেই ঘোষণার গত দেড় বছরেও এক অঙ্কের সুদহার কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
এসএমইতে এক অঙ্কের সুদ বাদ দিতে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কী মতামত জানিয়েছেন, এমন এক প্রশ্নের জবাবে আলী রেজা ইফতেখার জানান, ক্রেডিট কার্ড বাদে সব ঋণেই সুদ এক অঙ্কের পক্ষে থাকবে। তবে তারা জানিয়েছেন, এসএমইর শুধু উৎপাদনশীল খাতের অংশে তারা এক অঙ্কের সুদহার কার্যকর করতে বিশেষ অনুরোধ করেছেন। অনুৎপাদনশীল খাতসহ অন্য খাতে বাদ দিতে বলেছেন।
আনন্দবাজার/তাঅ









