সড়কের ধারে হঠাৎ করে দৃষ্টি আটকে যায় পথিকের। অনেকে থমকে যায়, আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকার সৌন্দর্য দেখেন। ছবি তুলেও নিয়ে যান তারা। সেই ছবি আবার সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ। এমন দৃশ্য দেখা যায়, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌর সদরের গোত্রশাল গ্রামের সৌখিন কৃষক কলিম উল্লাহর ধান ক্ষেতে। বিস্তীর্ণ সবুজের মাঠে সবুজ ও বেগুনির মিশেলে ধানক্ষেতে ফুটিয়ে তুলেছেন ‘জাতীয় পতাকা’।
কলিম উল্লাহ পেশায় একজন কৃষক। তার বাবা খলিলুর রহমান তিনিও একজন কৃষক। মা ছায়েরা খাতুন গৃহীনি। দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করছেন। তিনি এলাকায় জমি লিজ নিয়ে সবজি চাষ করতেন। এ সবজি বিক্রি করে তার সংসার চলাতেন। উপ-সহকারি কৃষি অফিসার জোনায়েদ হোসেনের সহযোগিতায় এ সব সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হন। পরে তিনি গত বছর বীজ উৎপাদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে একটি লাইসেন্স পান। লাইসেন্স পেয়ে গোত্রশাল গ্রামে ৪২ শতক জমি লিজ নেন। সে জমিতে বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিডার বীজ ধান চাষ করছেন। মা মাটির দেশকে ভালোবাসেন মনে প্রাণে। দেশের প্রতি ভালোবাসা রেখে জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানিয়ে এ ধানক্ষেতেই ফুটিয়ে তুলেছেন ‘জাতীয় পতাকা’।
তিনি আরও বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে বেগুনি রঙের ধানসহ বিভিন্ন জাতের ১০ কেজি ক্রয় করে আনেন। ওই বেগুনি রঙের ধানগাছ দিয়ে অনেকেই অনেক কিছু তুলে ধরেছেন। তিনিও তুলে ধরেছেন জাতীয় পতাকা। এ জমিতে উন্নত জাতের চারটি ধান চাষ করছেন। জাতগুলো হল- ব্লাক রাইস সিঙ্গাপুর, ব্লাক রাইস জাপান, জিংক সমৃদ্ধ বেগুনি ধান বাংলাদেশ ও জিংক সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু ১০০। ৪২ শতক জমিতে প্লট আকারে এসব ধান চাষ করছেন তিনি। এখন পর্যন্ত এতে খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ঘুরতে আসা গোমকোট গ্রামের শাহাদাত হোসেন বলেন, নাঙ্গলকোট আসার সময় বাতুপাড়া-গোত্রশাল নতুন সড়কের পাশে জাতীয় পতাকার আদোলে ধান ক্ষেতেটি দেখে অনেক ভালো লাগে। দৃষ্টি কাড়ে অনেকের। তাই বাইক থামিয়ে ছবি তুলেন আপন মনে। এ বিষয়ে পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার জোনায়েদ হোসেন বলেন, সবজি চাষ থেকে শুরু করে অনে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার নিদের্শে বেগুনি রঙের ধান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। বর্তমানে তিনি উন্নত মানের চারটি ধান জাত চাষ করছেন। আর জাতীয় পতাকাটির নকশা তৈরি করে তিনি।









