মাইলেজ সুবিধা বহালের দাবিতে আন্দোলনরত রেলওয়ে রানিং স্টাফরা যে লাগাতার কর্মসূচী ঘোষণা করেছিলো তা তারা প্রত্যাহার করেছে।
রবিবার (৩০ জানুয়ারি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়। আন্দোলনরত রানিং স্টাফরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি মেনে নেওয়ায় তারা আন্দোলন কর্মসূচী থেকে আপাতত সরে এসেছেন। পাশাপাশি সকল কর্মচারীদের কাজে ফেরার আহবান জানান নেতারা।
গত নভেম্বর অর্থমন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে রেলওয়ে স্টাফদের মাইলেজ ভাতা বাতিল করা হয়। সে ভাতা বহালের দাবিতে কয়েক মাস ধরে রেলওয়ে স্টাফরা আন্দোলন করে আসছিলো। তাদের আল্টিমেটাম ছিলো রোববারের (৩০ জানুয়ারি) মধ্যে দাবি না মেনে নিলে ৩১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করবেন। এই প্রেক্ষাপটে বিকালে রেলপথ মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর, রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার আন্দোলনরত স্টাফদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসেন।
প্রায় তিন ঘন্টার বৈঠক শেষে কর্মসূচী প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান জানান, সমস্যা সমাধানে রেলওয়ে সচিব রেলপথমন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীরসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশ্বাসে তারা আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করেছেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, মাইলেজ নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিলো তা সমাধান হয়েছে।
রেলওয়ের সংস্থাপন কোড অনুযায়ী রানিং স্টাফরা দিনে আট ঘন্টার বেশি দায়িত্ব পালন করলে বা একশো মাইলের বেশি ট্রেন চালালে একদিনের সমপরিমান টাকা ভাতা হিসেবে পান। আর এই ভাতাকে বলা হয় মাইলেজ বা রানিং ভাতা। এই অঞ্চলে রেল যাত্রার শুরু থেকে অর্থাৎ দেড়শো বছরের বেশি সময় ধরে রেলের রানিং স্টাফরা মাইলেজ সুবিধা বা রানিং ভাতা পেয়ে আসছেন। কিন্তু নতুন করে বেতন হিসাবের সফটওয়ারে (আইবাস) ৩০ দিনের বেশি মাইলেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ বিষয়ে গত বছর অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে স্টাফদের এই সুবিধা বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়।
গত ৩ নভেম্বর অর্থমন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মাইলেজ ভাতা মূল বেতনের অংশ হিসেবে গণ্য হবেনা। তা পেনশনেও যোগ হবেনা। আরো বলা হয় ভাতার পরিমান মাসিক মূল বেতনের বেশি হতে পারবেনা। এরপর থেকেই শুরু হয় প্রতিবাদ। ওই প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন স্টাফরা। তাদের কর্মসূচী ছিলো ৩০ জানুয়ারির মধ্যে মাইলেজ সুবিধা বহাল না করলে ৩১ জানুয়ারি থেকে তারা লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবেন। ওইদিন থেকে রেলের চাকা ঘুরবেনা বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।
ট্রেনের চালক (লোকো মাস্টার), গার্ড ও টিকেট পরিদর্শক- টিটিদের রানিং স্টাফ বলা হয়। রেলওয়ে সংস্থাপন কোড অনুযায়ী, এই স্টাফরা দিনে আট ঘন্টার বেশি দায়িত্ব পালন করলে বা একশো মাইলের বেশি ট্রেন চালালে একদিনের সমপরিমান টাকা যা মাইলেজ ভাতা নামে পরিচিত তা পান। জানা গেছে, জনবল সংকটের কারনে চালক, গার্ড ও টিটিদের দৈনিক কর্মঘন্টা এখন ১২ ঘন্টা। রানিং স্টাফদের বক্তব্য, দিনে তাদের কর্মঘন্টা বারো ঘন্টা হলেও কাজ করতে হয় ১৫ থেকে ১৬ ঘন্টা। তারা মূল বেতনের চেয়ে মাইলেজ ভাতা বেশি পান।
জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে রানিং স্টাফদের বেতনভাতাও সরকারি আইবাস প্লাস সফটওয়্যারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। আইবাসে মাসে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি ট্রেন চালানোর জন্য ইনপুট দেওয়ার সুযোগ নেই। অথচ রানিং স্টাফরা মাসে ছয় সাত হাজার কিলোমিটার ট্রেন চালান। রেলমন্ত্রীসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানোর পরেও বিষয়টি সুরাহা হয়নি বলে বড় আন্দোলনের কর্মসূচী দিয়েছিলেন তারা।
আনন্দবাজার/শহক









