আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রবীন্দ্রনাথকে ধারন করেছিলেন, তিনি সেই ভাবেই মানুষকে ভালোবাসতেন, যে ভাবে রবিন্দ্রনাথ মানুষকে ভালোবেসেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর যখন মন খারাপ থাকতো তখন তিনি রবিন্দ্র সংগীত শুনতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেরণায় বাংলার স্বাধীনতা অর্জনের মধ্যে দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিশ্বকবির আদর্শে সর্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠায় যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন ১৫ আগষ্টে পুরো পরিবার সহ জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। এরপর সেনা শাসিত জিয়া, এরশাদ সহ স্বাধীনতা বিরোধী জামাত সরকার ক্ষমতায় এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রেখে যাওয়া সাহিত্য কর্ম, দর্শন, সংস্কৃতি দমাতে ভুমিকা রেখেছিল। আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মগুন প্রসার করেছে। আমাদের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ এ ভালবাসার মধ্যে রবিন্দ্রনাথ আছেন, এ জায়গা থেকে কেউ তাকে সরিয়ে দিতে পারবে না। রবিবার দুপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।
গতকাল রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসক ড. ফারুখ আহম্মেদের সভাপতিত্বে ১৬১তম জন্মবার্ষিকী উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম, পৌর মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদি, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শাহ্ আজম প্রমুখ।
২৫ শে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবৃত্তি, নৃত্য, প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা সভা। তিনদিনব্যাপি জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানকে ঘিরে শাহজাদপুরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, নাটোরের রানী ভবানীর জমিদারীর একটি অংশ শাহজাদপুরের জমিদারি নিলামে উঠলে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকনাথ ঠাকুর ১৮৪০ সালে মাত্র ১৩ টাকা ১০ আনায় শাহজাদপুরের এ জমিদারী কিনে নেন। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ এ ৮ বছর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শাহজাদপুরের জমিদারি দেখাশুনার জন্য এখানে আসতেন এবং সাময়িক ভাবে বসবাসও করতেন। আর এখানে বসেই কবি রচনা করেছেন কবিতা সোনারতরী, চিত্র, চৈতালী, কল্পনা, ছোটগল্প পোষ্ট মাষ্টার, রাম কানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, ব্যবধান, তারা প্রসন্নের কীর্তি, ছুটি, সমাপ্তি, ক্ষুধিত পাষান, অতিথি, ৩৮ টি ছিন্ন পত্রাবলী, প্রবন্ধ ও গীতাঞ্জলির অংশ বিশেষ, নাটক বিসর্জন এর মত সাহিত্য কর্ম।









