অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চড়া দামে উঠিয়ে মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিতে কাজ করছে। সেই লক্ষে এবার তাদর কু-নজর রসুনের ওপর পড়েছে। ফলে কয়েকদিনের ব্যবধানে রসুনের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে। এতে করে খেটে খাওয়ার মানুষের ওপর এক ধরনের অমানবিক চাপ পরেছে।
দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কয়েকদিনের ব্যবধানে আমদানি করা রসুনের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে। যেখানে কিছুদিন আগেও রসুন পাইকারিতে প্রায় ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই রসুনই বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৫৫ টাকায়। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৭০ টাকা। রসুনের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। আরও দেখা যায়, চকবাজারসহ প্রায় দেশের সব খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনের রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৭০ টাকা।
খাতুনগঞ্জের রসুন ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজিতে ৬০ বেশি দাম দিয়ে রসুন চীন থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এই কারনে চিনের রসুন আমাদেরকেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আরেক ব্যবসায়ী পলাশ বলেন, বাজারে দেশি রসুন রয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্রেতাদের পছন্দ চিনের রসুন। বাজারে আসা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্রেতা চিনের রসুন কেনে থাকে। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের চীন থেকে রসুন আমদানি করতে হয়।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, বাজারে দেশি রসুন প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও অধিকাংশ ক্রেতা তা কিনতে আগ্রহী না। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত অভাবে উৎপাদনের তিন-চার মাসের মধ্যে রসুনের মজুদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু চীন রসুন সংরক্ষণ করা যায় দীর্ঘদিন। তাই বাজারে সব সময় চাহিদার শীর্ষে চীনের রসুন। তবে চাহিদার কারনে আমদানি কমে হওয়ায় এর দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পরেছে বাজারে।
খাতুনগঞ্জের বেশকিছু কাঁচা পণ্যের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, চীন থেকে আমদানি করা রসুন ভরপুর সেখানে। বাজারে থাকার পরও বিক্রেতারা দাম চাচ্ছেন বেশি। এক বিক্রেতা মানিক লাল বলেন, অনেক আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীর আড়তে বাড়তি রসুন মজুদ রয়েছে। রসুনের দাম কেজি প্রতি ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকার ওপর চলে এসছে। আর বলেন, ক্রেতার পকেট থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে বাজারে এ ধরনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে খাতুনগঞ্জে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকের কারসাজিতে রসুনের দাম কয়েক দফায় বেড়ে কেজি প্রতি ২২০ টাকায় ওঠে এসেছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম অভিযানে নেমে কারসাজির প্রমাণ পায়। তখন অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা করোনা পরিস্থিতিকে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন।
আনন্দবাজার/শহক









