পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে পুঁজিবাজার তালিকাভূক্ত ৬৫ কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। চিঠিতে ওই পরিমাণ অর্থ উন্নীত করার পরিকল্পনা জানাতে এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মিনহাজ বিন সেলিমের সই করা এই চিঠি কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই চিঠির কপি দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের এমডিকে দেয়া হয়।
সূত্রমতে, পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা জানাতে বেঁধে দেয়া সময় চিঠি ইস্যুর তারিখ থেকে গণ্য হবে। তবে বেশকিছু কোম্পানিকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে এসব আগামি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় পাচ্ছে কোম্পানিগুলো। এছাড়া বেশকিছু কোম্পানিকে এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেব আগামি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাচ্ছে।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকার নিচে রয়েছে, তাদের মূলধন ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ডিএসই ও সিএসই লিস্টিং রেগুলেশন ২০১৫ এর ৯ ধারার আই উপ-ধারা অনুযায়ী মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকার নিচে থাকতে পারবে না। ওই আইন পরিপালনে কোম্পানিগুলো বোনাস বা রাইট শেয়ার ইস্যু করে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবে। এছাড়া রিপিট আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মূলধন বাড়াতে পারবে।
জেড বা দূর্বল কোম্পানির নিয়ে আমরা কাজ করছি জানিয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত উল-ইসলাম দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, পুঁজিবাজার তালিকাভূক্ত যেসব কোম্পানির দুর্বল বা পরিশোধিত মূলধন কম রয়েছে, কীভাবে তাদের মূলধন আরো উন্নীত করা যায়, সেবিযয়ে পরিকল্পনা চলছে। এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে।
এক সময় জেড কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে থাকবে না এমন মন্তব্যে করে তিনি বলেন, জেড বা দুর্বল কোম্পানিকে ভালো করার জন্য কিছুটা সময় নিয়ে নার্সিং করবো। ওই সময়ের মধ্যে যেসব কোম্পানির ভালো অবস্থানে আসতে পারবে সেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে থাকবে। ভালো অবস্থানে না আসতে পারা কোম্পানিগুলোকে শাস্তি হিসেবে স্বল্প মূলধনী বোর্ডে (এসএমই) পাঠিয়ে দিব। সেখানে কয়েক বছর রাখবো। সেখানে ভালো করতে পারলে ফিরিয়ে আনবো, নইলো আউট করে দিবো।
আনন্দবাজার/শহক









