তেল নিয়ে চলছে তেলেসমাতি কারবার। গত ১ মাস ধরে তেলের বাজার বেসামাল হয়ে পড়েছে। কেন বেসামাল? এর জবাব কেউ দিতে পারছে না। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা থেকে শুরু করে তেলের আমদানিকারক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী, খুচরা ব্যবসায়ী কোনো পর্যায়েই এর সমাধান মিলছে না। হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম। সোয়াবিন তেল যেন সোনার হরিণ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তেল নিয়ে নানান হাস্যরসও করা হচ্ছে। টিসিবির গাড়ির লাইনে শত শত মানুষ তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে। সোয়াবিন তেলের হাহাকারের চাপ পড়েছে এখন সরিষার তেলেও। সোয়াবিন তেলের দাম তো বেড়ে তুঙ্গে। সরিষার তেলের দামও এখন কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। যার কোনো কারণ নেই। বাড়ছে ব্যবসায়ীদের নানা কারসাজিতে তা আর বোঝার কারো বাকি নেই। তারপরও সুরাহা হচ্ছে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নেই এই বাজার পরিস্থিতির ওপর। ফলে তেলের বাজার পরিস্থিতির বিষয়টি এখন হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। হাইকোর্টে রিট হয়েছে।
যদিও সরকার এবং ব্যবসায়ী উভয়ই বলছেন, বাজারে তেলের কোনো সংকট নেই। আমদানিকারকরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালিয়েছে, সেটাও এখন বেরিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিকভাবে যে দাম বেড়েছে সে দামের তেল এখনো বাংলাদেশে আসেনি। যে তেল এখন বাজারে ছাড়া হচ্ছে এগুলো পূর্বের দামে আমদানি করা। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে দাম বেড়েছে এই অজুহাতে এখনই যে দাম বাড়ানো হয়েছিল তার গোমর ফাঁস হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি এসব অসাধু ব্যবসায়ীর বিষোদগার করেছেন। তিনি অবশ্য যা বলেছেন তাতে যথাযথ কাজ করেছেন। তবে এটি শুধু গণমাধ্যমের সামনে বলার জন্যই বলা না হয়ে যদি প্রকৃতই মানুষের জন্য বলা হয়ে থাকে তাহলে ভালো। তবে এফবিসিসিআইর এই বৈঠক থেকে অনেক কিছুই বেরিয়ে এসেছে। বাজারে সোয়াবিন তেলের সংকট নেই।
বিশ্ববাজারে যে দাম বেড়েছে সে তেল এখনও বাংলাদেশে আসেনি। আগের দামে আনা তেল বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে এই বৈঠক থেকে যেসব সুপারিশ এসেছে তা এই মুহূর্তে কার্যকর হলে তেলের যে আকাল পড়েছে তা দূর হবে। মানুষ তেল নিয়ে যে ত্রাহি অবস্থার শিকার তা থেকে পরিত্রাণ পাবে। এক্ষেত্রে সরকার, আমদানিকারক, সরবরাহকারী ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতা যার যার অবস্থান থেকে এই মুহূর্তে যা করণীয় তাই করা উচিত। কালবিলম্ব করা ঠিক হবে না। গত এক মাসে তেল নিয়ে যে তেলেসমাতি হয়েছে তা আর করতে দেয়া যাবে না। আর এটা হলে দেশে উৎপাদিত সরিষার তেলের দামও মনিটরিং করে আগের দামে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। সরিষার দাম বাড়েনি।
তেলের মিলগুলো সরিষা কিনে রেখেছে আগেই ৷ ফলে এখন সরিষার তেলের দাম বাড়ানোর কোনোই কারণ নেই। তারপরও সোয়াবিন তেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সরিষার তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। যা কমিয়ে আনতে মনিটরিং বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সরিষার তেলের সরবরাহ ও দাম কম থাকলে অনেকেই সরিষা তেল খাবে। এতে সোয়াবিন তেলের চাহিদা কমে যাবে এবং তেলের দাম কমিয়ে আনার জন্য এটাও একটা সমাধান হতে পারে। এ বিষয়গুলোও ভাবা প্রয়োজন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।









