ময়মনসিংহের নান্দাইলে বোরো ধান জমিতে ব্যাপক হারে চিটার আক্রমনে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে কয়েক হাজার কৃষক তাদের বোরো ধানের জমিতে চিটা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। চিটা রোগের ক্ষতির কারণে এ বছর ফলন অনেক কমে যাবে। এমন কি খরচের টাকাও উঠানো যাবে না বলে অনেক কৃষক ধারণা করছেন।
বকুল মিয়া মুশুল্লির পালাহার গ্রামের একজন কৃষক। চলতি মৌসুমে তিনি ২ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। তার মধ্যে এক একর জমির ধান চিটা হয়ে গেছে। বাকি জমিতেও কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। এদিকে রোববার একই গ্রামের কৃষক ফিরোজ মিয়া ৩৫ শতক জমির ধান কেটেছেন। তিনি জানান, গত বছর এই জমিতে ২২ মন ধান উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু এ বছর চিটার আক্রমনের কারণে ৮ মনের বেশি হবে না। বকুল ও ফিরোজ মিয়ার মত এই উপজেলায় কয়েক হাজার কৃষকের বোরো ধানে চিটা রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
একই এলাকার কৃষক সুলতান উদ্দিন বলেন, আমার ৫ কাঠা জমিতে ধান চিটা হয়ে গেছে। গাছের ওপরের দিকটা মরে খড়ের মতো হয়ে গেছে। আগমুশুলী গ্রামের কৃষক রোকন উদ্দিন বলেন, আমার এক একর জমির মধ্যে ৭ কাঠাতেই চিটার আক্রমন করেছে। তাই জমির ফলন কম হওয়ার শঙ্কা রয়েছি। ধরগাঁও ও আমলিতলা বাজারের অন্তত ১৫ জন কৃৃষকের সাথে কথা বললে তাঁরা জানায়, ধানে শীষ বের হওয়ার আগে থেকে কোন বৃষ্টি হয়নি। তাই তাঁদের সর্বনাশ হয়েছে। চিটা রোগের ক্ষতির কারণে এ বছর ফলন অনেক কমে যাবে। এর ফলে খরচের টাকাও উঠানো যাবে না।
নান্দাইল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশই ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের ধান। চিটা বেশি আক্রান্ত হয়েছে ব্রি-২৮ ধানে। এবার চৈত্র মাসজুড়েই কোন বৃষ্টি হয়নি। সে কারণেই চিটা রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ দিন বৃষ্টি না হওয়ায় এই উপজেলায় চিটা রোগ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির অভাবে ও ঝড়ের কারণে চিটা রোগ ছড়াতে পাড়ে। ব্রি-২৮ ধান আগাম হওয়ায় এই ধানে বেশি চিটা হতে দেখা গেছে। চিটা রোগ সম্পর্কে কৃষকরা যাতে আগাম প্রস্তুতি নিতে পারে সেজন্য সচেতনতামূলক ১ হাজার লিপলেট বিতরণ করা হয়েছে।









