করোনার প্রভাবে বিপাকে পড়েছে টমেটো চাষিরা। বিক্রি করতে পারছে না কোনো টমেটো। কেউ কেউ বিক্রি করলেও দাম খুব কম পাচ্ছেন। এ অবস্থায় ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ছেন তাঁরা।
গত দুই সপ্তাহ ধরে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার টমেটোচাষিরা এমন অবস্থার শিকার হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, খেতগুলোর ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ টমেটো জমিতে পেকে গেছে। অবশিষ্ট টমেটো খেতে আধা পাকা রয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি রবি মৌসুমে মোট ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর কৃষিজমিতে সবজির আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে টমেটোর আবাদ হয় ৩০০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ, সুন্দলপুর, বারপাড়া, গোয়ালমারী, দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ব্যাপকহারে কৃষকেরা টমেটোর আবাদ করেছেন। এবার প্রতি হেক্টর জমিতে টমেটো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪০ মেট্রিক টনের বেশি।
দশপাড়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান , ৭৫ শতক জমিতে টমেটোর আবাদ করে দেড় লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। এ পর্যন্ত মাত্র ৩২ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। টমেটো খেতেই ফেলে রাখবেন কি না ভাবছেন। কারণ, টাকা খরচ করে হাটে নিয়ে গেলে আরও বেশি লোকসান হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার জামান বলেন, রবি মৌসুমে আবাহাওয়া অনুকূলে থাকায় দাউদকান্দি উপজেলায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কৃষকেরা সেগুলো বড় বড় বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন। আর ভবিষ্যতেও টমেটো চাষে কৃষক আগ্রহ হারাবেন।
আনন্দবাজার/শহক









