সরবরাহকালে আটক ৪, জরিমানা লাখ টাকা
‘আটক আর জরিমানাতে থামবে না অপরাধ’
রাজশাহী মহানগরীতে মৃত ছাগলের মাংস, মৃত জবাই করা ছাগল ও রুগ্ন-অসুস্থ ছাগলের মাংস সরবরাহের অভিযোগে চার জনকে আটক করেছে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় আসামীদের কাছ থেকে ১৫০ কেজি মৃত ছাগলের মাংস, ৪টি মৃত জবাই করা ছাগল ও ২৭টি রুগ্ন-অসুস্থ ছাগল উদ্ধার হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলেন রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার দরগাপাড়ার মশিউর রহমান আপেল, ফাইসাল এবং সহযোগী কায়েস ও ফয়সাল হোসেন।
গত শনিবার বিকেলে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আরেফিন জুয়েল এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল হাসান, এসআই মাহফুজুর রহমান ও তার টিম মহানগর এলাকায় বিশেষ অভিযান ডিউটি করছিলো। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, কতিপয় ব্যক্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ এলাকা থেকে মৃত ছাগলের মাংস, মৃত জবাই করা ছাগল ও রুগ্ন-অসুস্থ ছাগল রাজশাহী শহরের বিভিন্ন খাবার হোটেলে সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছে।
বিকেল পৌনে ৫টায় মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক বালিয়ার মোড় থেকে পিকআপ ভ্যানসহ (ঢাকা মেট্রো-ন-১৬-৫২০৫) চার জনকে আটক করে। এসময় পিকআপ ভ্যান তল্লাশী করে ১৫০ কেজি মৃত ছাগলের মাংস, ৪টি জবাই করা মৃত ছাগল ও ২৭টি রুগ্ন-অসুস্থ ছাগল উদ্ধার হয়। আটক আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মাংস সরবরাহ করা সংক্রান্তে কোন বৈধ কাগজ-পত্র বা কোন পশু ডাক্তারের উপস্থিতিতে পরীক্ষা করে জবাই করা হয়েছে কি’না এ সংক্রান্তে তারা কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।
পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ বস্তা ভর্তি মাংস ও জবাইকৃত ছাগলগুলো পরীক্ষার জন্য রাজশাহী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়ে যায়। সেখানে জেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর পরীক্ষানিরীক্ষা করে ছাগলগুলো মৃত অবস্থায় জবাই করা হয়েছে ও মাংসগুলোও মৃত ছাগলের মাংস এবং জীবিত ছাগলগুলো রুগ্ন-অসুস্থ ও স্বাস্থ্য সম্মত নয় বলে জানান।
বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর’কে অবহিত করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ এলাকা থেকে মৃত ছাগলের মাংস ও মৃত জবাই করা ছাগল এবং রুগ্ন-অসুস্থ ছাগল স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন খাবার হোটেল, রেস্তোরা, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, বিরিয়ানী হাউজ, জেলখানা, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাজারে সরবরাহ করে আসছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা ভবিষ্যতে এরুপ অপরাধ করবে না মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদানপূর্বক ক্ষমা প্রার্থনা করে। গ্রেপ্তারকৃত আটককৃতদের এহেন কর্মকান্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অপরাধ হওয়ায় জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আটকৃতদের অপরাধ বিবেচনা করে মৃত ছাগলের মাংসের মালিক মশিউর রহমান আপেল ও ফাইসালকে ৮০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং জবাইকৃত মৃত ছাগল এবং মৃত ছাগলের মাংস মাটিতে পুতে ধ্বংস করেন।
আনন্দবাজার/এম.আর









