আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ১৩টি ‘কৃষক মাঠ স্কুল’ এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণিদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। উপজেলায় রবি মৌসুমে ধানের ৭টি, গমের ৪টি, এবং খরিপ-২ মৌসুমে নাবি পাট বীজ ২টি ও রোপা আমন ১টি- তে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে কৃষক-কৃষাণীদের ।
জানা যায়, এ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ১৫ জন। যারা সবাই কৃষক-কৃষাণী। তাদেরকে ৫টি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ফসলের অবস্থাভেদে ৫টি ক্লাসে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। এতে করে তাদের ফসলের রোগ-বালাই ব্যবস্থাপনা এবং ফসল উৎপাদনে দক্ষতা বাড়ে। পাশাপাশি তাদেরকে শিখানো হয় মাটি ব্যবস্থপনা, কৃষিতে জৈব সারের ভূমিকা, কিভাবে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করা যায়, নিরাপদ ফসলের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশের সুরক্ষায় জৈব সারের ভূমিকা। এ স্কুলে প্রশিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা।
আরও জানা যায়, যেহেতু ভালো ফসল উৎপাদনের পূর্বশর্ত বীজ ভালো হওয়া আবশ্যক। তাই প্রকল্পে তাদের মধ্য থেকে একজনের নামে বীজ ব্যবসার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বীজ ব্যবসায়ী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এতে করে ঐ সকল কৃষক যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে ঠিক তেমনি ঐ এলাকার এবং আশে-পাশের এলাকার কৃষকের বীজের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিকভাবে তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
মাঠ স্কুলের ক্লাসের মাধ্যমে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাতের সঙ্গে পরিচয়সহ হাতে-কলমে কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহারও শেখানো হচ্ছে আমাদের। আধুনিক চাষাবাদের মাধ্যমে কম খরচে নিজেরাই স্বাস্থ্যসম্মত ফসল ফলানোর প্রক্রিয়া হাতে-কলমে শিখছি এখান থেকে, কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার কৃষক মাঠ স্কুলের প্রশিক্ষণার্থী কৃষক-কৃষাণিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ এহসানুল হক জানান, কৃষকের মাঝে নতুন নতুন প্রযুক্তির বিস্তারে ‘কৃষক মাঠ স্কুল’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রকল্পের সামগ্রিক উদ্দেশ্য হলো ধান, গম ও পাট বীজ সহজলভ্য করে ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং বীজ বাজার ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা। তিনি আরও জানান, প্রতিটি কৃষকদলকে ১টি করে ওজন মাপার মেশিন, আদ্রতা মাপার মেশিন, গ্রেডিং মেশিন, বীজ বিক্রির বস্তা, বস্তা সেলাই করার সিলিং মেশিন এবং বীজ সংরক্ষণের জন্য ইরি কোকন দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য এ রকম মাঠ পর্যায়ে বেশি বেশি করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এ কর্মকর্তা।









