চলতি মৌসুমে ময়মনসিংহের নান্দাইলে সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন চাষিরা। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি সরিষা চাষিরা। এবার প্রত্যাশা ন্যায্যবাজার দরের।
জানা যায়, আগাম চাষ হওয়া জমির মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুল এখন সবুজে পরিনত হয়েছে। এখন সরিষার ফলন ঘরে তোলার অপেক্ষা। আমন ধানের পরবর্তী সময়ে বোরো ধানের শুরুর এ মধ্যবর্তী সময়ে জমিতে সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন নান্দাইলের চাষিরা। আগে এ অঞ্চলে সরিষার তেমন চাষ না হলেও গত কয়েক বছরে বেড়েছে সরিষা চাষের। উচ্চ ফলনশীল সরিষার বীজ, স্বল্প সময়, উৎপাদন খরচ কম এবং লাভবেশি হওয়ায় কৃষকরা ঝুঁকছেন সরিষা চাষের প্রতি।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর নান্দাইল উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৩ ইউনিয়নে ৯৮ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এরর মধ্যে রয়েছে, টরি ৭, বারি ১৪, ১৭, বিনা ৪,৯ ও স্থানীয় সরিষা। গত মৌসুমে ৮৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছিল। কৃষি অফিসের তদারকি এবং কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ার ফলে এবার ১৩ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এবার প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৬ শতাধিক চাষিকে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার প্রদান করা হয়। বিভিন্ন প্রশিক্ষণে বীজ সহায়তা হিসেবে ১২০ জন চাষিকে বীজ প্রদান, বীজ সহায়তার আওতায় আরও ২০০ জন কৃষককে বীজ প্রদান করা হয়েছে।
নান্দাইল সদর, খারুয়া, আচারগাঁও, চন্ডীপাশা, গাংগাইল, রাজগাতী, শেরপুর, ও চরবেতাগৈর ইউনিয়নে সরিষা চাষ বেশি লক্ষ্য করা যায়। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং সেচ, সার ও কীটনাশক কম লাগাতে সরিষার ভালো ফলন হয়েছে। সরিষা ক্ষেতের পাশে কৃত্রিম মৌচাক বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছে মৌচাষিরা। কাঠাপ্রতি (১০ শতাংশ জমিতে) দুই থেকে আড়াই মণ সরিষা উৎপাদন হয়ে থাকে। ভালোভাবে যত্ননিলে প্রতিহেক্টরে ৩০ থেকে ৩৫ মণ পর্যন্ত সরিষা উৎপাদন হয় বলে জানান নান্দাইল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার নাদিয়া ফেরদৌসি।
নান্দাইল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ফলে সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সরিষা চাষের ৪৫টি প্রদর্শনী প্লট রয়েছে। আশাকরা যাচ্ছে এবছর সরিষার বাম্পার ফলন হবে।
আনন্দবাজার/এম.আর









