বাংলাদেশ এখন শুধু কৃষি প্রধান দেশই নয়। শিল্পখাতেও বাংলাদেশের অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে। কৃষিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে শিল্প। এমনই শিরোনাম করেছে দৈনিক আনন্দবাজার। শিল্পের অবদান বেড়েছে ৩ গুণ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। নিঃসন্দেহে এই সংবাদ আশার সঞ্চার করে। তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশের পর শিল্পেও বিপ্লব ঘটাতে পারে। খবর অনুযায়ী দেশে মোট কারখানা ৪৬ হাজার। শিল্পখাতে মানুষ কাজ করছে ৫৫ লাখ। গত ৭ বছরে বেড়েছে ৪ লাখ।
সবচেয়ে আশার বিষয় যে, শিল্প কারখানা এখন শুধু শহর বা আশপাশেই সীমাবদ্ধ নেই। গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পরেছে কল কারখানা। ছোট ছোট অনেক শিল্প কারখানা এখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে গড়ে উঠেছে। জেলা শহরগুলোতেও মাঝারি, বড় শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। বলা যায় দেশের পাহাড়ি অঞ্চল বাদে এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠছে না। এতে করে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। শিল্প-কলকারখানা যেমন গড়ে উঠছে তেমনি আবার অনেক এলাকায় অনুকূল পরিবেশ না থাকায় সেসব বন্ধও হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে অনেক মানুষ বেকারত্ব বরণ করছে। পাশাপাশি যারা কল কারখানা গড়ে তুলছেন তারা নানা প্রতিকূল অবস্থায় টিকতে না পেরে ঋণে জড়িয়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ, কাঁচামালের অপ্রতুলতা, শ্রমিক ঠিকমতো না পাওয়া, উৎপাদিত মালের বাজারজাত করতে না পারা।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় সংকট ইত্যাদি কারণে অনেক এলাকায় শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠলেও টেকসই হচ্ছে না। এমন সংবাদগুলো কিন্তু ভাবিয়ে তোলে। ফলে দেশের সর্বত্রই ছোট, মাঝারি, বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মতো সাহসী উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে যেসব সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব সেসব আমলে নিতে হবে। যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, পরিবহন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাংকিং সুবিধা, আইন শৃংখলা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সহযোগিতা এসব বিষয়ে যাতে কোনো শিল্প উদ্যোক্তা ঝামেলায় না পরে সেদিকে সরকারের সুদৃষ্টি থাকা উচিত। শিল্প গড়ে উঠা এবং সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যায়। যা মোটেও কাম্য নয়। দেশে শিল্পের প্রসারে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তা সামনের দিকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেশি আন্তরিক হতে হবে। উদ্যোক্তারা যেন কোনভাবেই নিরাশ না হন। তাদের এগিয়ে নিতে সরকারের দিক থেকে যে সব পৃষ্টপোষকতা দেয়া প্রয়োজন তা যথাসময়ে দিতে হবে। কোনো প্রতিবন্ধকতা যেন শিল্পের প্রসারে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সে ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।
শিল্প গড়ে ওঠা আনন্দ এবং বুক ভরে উঠার খবর। কিন্তু শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর শুধু ব্যথিত নয়, হতাশার জন্ম দেয়। এই হতাশা সরাতে হবে। দেশ জেগে উঠছে। এই জাগ্রত দেশকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তবেই সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন স্বার্থক হবে।









