প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে মাছ আহরণ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকেই বিএফডিসির তিনটি (রাঙামাটি, কাপ্তাই এবং মহালছড়ি) বিপণন কেন্দ্রে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মাছ নিয়ে আসেন জেলেরা। মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় এ সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও বেশ প্রাণচাঞ্চল্যতা দেখা দিয়েছে। কাজে ফিরেছেন শ্রমিক-কমচারী, ব্যবসায়ীসহ সবাই। চালু হয়েছে বিএফডিসির তিনটি বরফ কলও।
তবে জেলে এবং ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর প্রথমদিনে অনেক বেশি মাছ ধরা পড়েছে। আহরিত মাছের মধ্যে ছোট মাছের আধিক্য বেশি।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) সূত্র হতে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষম বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করা সহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবছরের ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আগস্ট থেকে শুরু হয় নতুন মৌসুম। আগস্ট থেকে পরবর্তী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এই ৯ মাসকে মৌসুম ধরা হয়। তবে চলতি বছর কাপ্তাই হ্রদে পানি কম থাকায় বিগত বছরের চেয়ে ১০ দিন পর অর্থাৎ ১১ আগস্ট থেকে মাছ আহরণ শুরু হয়েছে।
এই ব্যাপারে কয়েকজন পাইকারি মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, বিগত বছর গুলোর তুলনায় হ্রদে চলতি বছর পানির পরিমাণ অনেক কম। এই কারণে প্রথম দিনে অনেক মাছ ধরা পড়েছে। যা অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে অনেক ভালো। কিন্তু এখন যদি কম পানিতে সব মাছ ধরা পড়ে যায়। তবে মৌসুমের শেষ সময়ে হ্রদে মাছ আহরণ হবে না। তাই এখানে বৃষ্টিটা বড় ফ্যাক্টর।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর হ্রদে পানি কম থাকায় আমরা পানির অপেক্ষায় ১০ দিন পর আহরণ চালু করেছি। গেল অর্থবছরে কাপ্তাই হ্রদ থেকে ১২ হাজার ৬৯৫ টন মাছ আহরিত হয়েছে। এর বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। চলতি বছরে এর চেয়ে ভালো হবে যা আমাদের প্রত্যাশা। এছাড়া এই বছর আমরা কাপ্তাই হ্রদে ৪৩ টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করেছি। যা বিগত সময়ের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









